ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) ও বাংলাদেশ খলাফত মজলিস, দু’টি ইসলামিক দল, ১১‑দলীয় জোটে জামাত‑ই‑ইসলামির সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় বিবেচনা করছে। ঢাকার রামপুরা এলাকায় একটি মাদ্রাসায় গত রাতে আইএবির আমীর সাইদ মুহাম্মদ রেজাউল করিম নেতৃত্বে গোপনীয় বৈঠকে দলীয় নেতারা জাতীয় নির্বাচনের জন্য সিট‑শেয়ারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় থেকে গ্রামীণ স্তরের নেতারা জামাতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার বিভিন্ন দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জুলাই মাসের উত্তেজনা পরবর্তী সময়ে আইএবি একটি প্রচারণা চালু করে, যেখানে সব ইসলামিক শক্তিকে একত্রিত হয়ে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় একক প্রার্থী দায়ের করার আহ্বান জানানো হয়। প্রথমে বাংলাদেশ খলাফত মজলিস, খলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ নেজাম‑ই‑ইসলাম পার্টি এই আলোচনায় অংশ নেয়, পরে জামাত‑ই‑ইসলামি ষষ্ঠ দল হিসেবে যোগ দেয়।
এরপর জাতীয় গনতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) সিট‑শেয়ারিং আলোচনায় অংশ নেয়। তবে আইএবির সূত্র অনুযায়ী, জামাত এককভাবে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা অন্যান্য দলগুলোর কাছে স্বাগত হয়নি। জামাতের কিছু বৈঠক জাতীয় সিটিজেন পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও অমর বাংলাদেশ পার্টি (এবিপি) সঙ্গে আলাদা ভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তবে এই বৈঠকগুলোর তথ্য অন্য দলগুলোকে আগে জানানো হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে আইএবির মধ্যে সিট‑শেয়ারিং নিয়ে অসন্তোষ বাড়ে। শুরুর দিকে দলটি ১০০টিরও বেশি সিটের দাবি করেছিল, তবে আলোচনার পর ধীরে ধীরে এই চাহিদা কমে ৫০টির বেশি সিটের দিকে সরে যায়। শেষ পর্যন্ত আইএবির চূড়ান্ত দাবি ছিল ৫০টির বেশি সিট, যেখানে জামাতের প্রস্তাব ছিল মাত্র ৪০ সিট। এই পার্থক্যকে নিয়ে আইএবির বেশিরভাগ নেতা জামাতের প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন।
জামাতের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, তারা অন্যান্য ইসলামিক দলকে সিট‑শেয়ারিংয়ে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আলাদা আলোচনা চালিয়ে আসছে, যা সম্ভবত জোটের সমন্বয় বজায় রাখতে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে এই পদ্ধতি আইএবির মত বড় দলকে বাদ দেওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে, ফলে জোটের অভ্যন্তরে বিশ্বাসের ফাটল গভীর হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি এই বিরোধ সমাধান না হয়, তবে ১১‑দলীয় জোটের কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। আইএবি ও খলাফত মজলিসের জোট থেকে সরে যাওয়া জামাতের নির্বাচনী শক্তিকে দুর্বল করতে পারে, তবে একই সঙ্গে জোটের সমগ্র ভোটভাগের সম্ভাবনাও কমিয়ে দিতে পারে। উভয় পক্ষই আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের আগে সমঝোতা করার চেষ্টা করবে, তবে সময়ের চাপ ও সিট‑শেয়ারিংয়ের পার্থক্য ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে।
এই পরিস্থিতিতে পার্টিগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। যদি আইএবি ও খলাফত মজলিস জোট থেকে বেরিয়ে যায়, তবে জামাতকে নতুন জোট গঠন বা অন্যান্য পার্টির সঙ্গে পুনরায় আলোচনার দরকার হবে। অন্যদিকে, যদি জোটের মধ্যে সমঝোতা হয়, তবে সিট‑বণ্টনের পুনর্বিবেচনা এবং পার্টিগুলোর মধ্যে সমন্বয়মূলক কাজ বাড়বে। শেষ পর্যন্ত, এই আলোচনার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক সমতা ও নির্বাচনী ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।



