ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) শীর্ষকর্মীরা ১৩তম জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের পূর্বে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনাগুলো রাজারবাগের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আজ অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় দেওয়া হয়।
সিনিয়র কর্মকর্তারা মাঠের অফিসারদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে তীব্রতা আনতে এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আগে হস্তক্ষেপ করতে বলছেন। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে কোনো অশান্তি বা সমাবেশের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
বৈধ প্রক্রিয়ায় ভোটদান নিশ্চিত করতে, কর্মকর্তারা ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ব্যক্তি অপরাধের পরিকল্পনা করলে বা ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে, তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে।
একজন উপস্থিত কর্মকর্তা, যিনি গোপনীয়তা বজায় রাখতে চেয়েছেন, উল্লেখ করেন, “প্রধান দিকনির্দেশনা হল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করা। যদি কেউ কোনো অপরাধের ইচ্ছা প্রকাশ করে বা ভোটকেন্দ্রের চারপাশে সমাবেশ গঠন করতে চায়, তবে পূর্বেই ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর কার্যকলাপ চিহ্নিত করে, ঘটনার আগে তাদের মোকাবিলা করা হবে।
অফিসাররা বডি-ওয়র্ন ক্যামেরা ব্যবহারকে বাধ্যতামূলক করে তোলার কথাও জানিয়েছেন। সকল কর্মীকে ক্যামেরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং রেকর্ডিং বজায় রাখতে হবে, যাতে নির্বাচনের সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
পুলিশ স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে এবং সামাজিক মিডিয়ায় এমন কোনো পোস্ট না দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার এস.এম. সাজ্জাত আলি সভায় জোর দিয়ে বলেছিলেন, “আমাদের কাজ হল দলীয় সীমানা অতিক্রম করে একটি নিখুঁত নির্বাচন নিশ্চিত করা।” তিনি সকলকে আহ্বান করেন, যেন তারা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া বজায় রাখে।
কমিশনারের মতে, নির্বাচনের সময় কোনো কর্মকর্তা বা কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে, তাই সবকিছু নথিভুক্ত এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পর কোনো অভিযোগ না থাকলে তা দেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃত হবে।
অফিসাররা এছাড়াও জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় কোনো বিধি লঙ্ঘন করলে কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে। এই সতর্কতা সকলকে আইন মেনে চলতে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় সচেতন করবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ডিএমপি এই নির্দেশনা পূর্বে কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে প্রো-অ্যাকটিভ পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। এটি দেশের বৃহত্তম নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বৈধ ভোটদান প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে, পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয় প্রশাসন ও বিচারিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখবে। এভাবে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে কোনো অনিয়ম দ্রুত সনাক্ত করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
এই নির্দেশনা অনুসরণে, ডিএমপি সকল স্তরের কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি বাড়াবে, যাতে তারা নির্বাচনের সময় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সক্ষম হয়। শেষ পর্যন্ত, লক্ষ্য হল দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কোনো বাধা ছাড়াই সম্পন্ন করা।



