27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবিশ্বকাপ না খেললেও ক্ষতি হবে না, ক্ষতি হবে ক্রিকেটারদের: বিসিবি পরিচালকের মন্তব্য

বিশ্বকাপ না খেললেও ক্ষতি হবে না, ক্ষতি হবে ক্রিকেটারদের: বিসিবি পরিচালকের মন্তব্য

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আর্থিক প্রভাব নিয়ে মিডিয়ার প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, বাংলাদেশ দল যদি ভারতের মাটিতে না খেলেও বোর্ডের কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে না; ক্ষতি হবে শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের, যাঁরা ম্যাচ ফি ও পারফরম্যান্স বোনাস থেকে বঞ্চিত হবেন।

বিসিবি ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ভারতের মাটিতে অংশগ্রহণ করবে না। শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের সম্ভাবনা থাকলেও, শর্ত পূরণ না হলে দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ না খেললে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নাজমুলের মতে, বোর্ডের আর্থিক ক্ষতি হবে না কারণ ম্যাচ ফি, ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার এবং অন্যান্য পারফরম্যান্স-ভিত্তিক সুবিধা সরাসরি খেলোয়াড়দের প্রদান করা হয়। দল যদি না খেললে এই সব আয় থেকে খেলোয়াড়রা বঞ্চিত হবে, ফলে তাদের আয়েই ক্ষতি হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আর্থিক সুবিধা নির্ধারিত হয়, তাই খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য টাকা ফেরত চাওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।

আইসিসি (ICC) এর নিয়ম অনুসারে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি খেলোয়াড়কে নির্দিষ্ট ম্যাচ ফি প্রদান করা হয়। এছাড়া, ম্যান অব দ্য ম্যাচ বা বিশেষ পারফরম্যান্সের জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়, যা সরাসরি খেলোয়াড়ের পকেটে যায়। বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লে এই সব সুবিধা হারিয়ে যাবে, ফলে আর্থিক ক্ষতি হবে কেবল খেলোয়াড়দের।

বিসিবি এবং সরকার দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটের উন্নয়নে বিশাল অর্থ বিনিয়োগ করে আসছে। তবে, নাজমুল উল্লেখ করেন যে, এই বিনিয়োগের বিপরীতে এখনও কোনো বৈশ্বিক শিরোপা আমাদের হাতে নেই। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, “আজ পর্যন্ত আমরা কি কোনো বৈশ্বিক শিরোপা আনতে পেরেছি? কোনো জায়গায় আমরা কতটুকু সফল হয়েছি?” এই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কখনোই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়নি।

বিসিবি পরিচালক স্পষ্ট করে বলেন যে, বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি কখনো বলিনি আমরা বিশ্বকাপ খেলব না। বোর্ড কখনো বলেনি, দেশ কখনো বলেনি আমরা বিশ্বকাপ খেলব না। আমরা বিশ্বকাপ খেলতে মুখিয়ে আছি।” এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, দল এখনও বিশ্বকাপের অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত।

নাজমুলের মতে, এখনো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল উপযুক্ত খেলার পরিবেশ তৈরি করা। তিনি উল্লেখ করেন যে, শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো দেশে ম্যাচ স্থানান্তর হলে, বাংলাদেশকে সেই পরিবেশে মানিয়ে নিতে হবে। তাই, বোর্ডের দায়িত্ব হল খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত শর্ত নিশ্চিত করা, যাতে তারা তাদের সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারে।

বিশ্বকাপের সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে বাংলাদেশ দলকে শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো হোস্ট দেশে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি এবং মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নাজমুলের মন্তব্য অনুসারে, আর্থিক ক্ষতি না হওয়ার বিষয়টি বোর্ডের জন্য স্বস্তির কারণ, তবে খেলোয়াড়দের জন্য পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আর্থিক সুবিধা বজায় রাখা অপরিহার্য।

বিসিবি ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তন হলে তা দ্রুত জানাবে এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমন্বয় করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে, সরকারও ক্রিকেটের উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা চালিয়ে যাবে, যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটের অবস্থান শক্তিশালী হয়।

সারসংক্ষেপে, বিশ্বকাপ না খেললেও বোর্ডের আর্থিক ক্ষতি হবে না, তবে খেলোয়াড়দের জন্য ম্যাচ ফি এবং পারফরম্যান্স বোনাসের সুযোগ হারিয়ে যাবে। তাই, খেলোয়াড়দের উচিত তাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা অর্জন করা, আর ক্ষতি হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদেরই হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments