মোবাইল ফোনের আমদানি শুল্ক হ্রাসের ফলে বাজারে দাম হ্রাসের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আইসিটি ও টেলিকম খাতের সংস্কারনামা শীর্ষক আলোচনাসভায় এ বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, শুল্ক কমার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফোনের দাম নামবে।
ফয়েজ আহমেদ জানান, শুল্ক হ্রাস মন্ত্রণালয়ের সরাসরি কাজ নয়, তবে তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করে শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এই পরিবর্তনটি সরকারী নীতি অনুযায়ী ৬০ শতাংশের বেশি হ্রাসকে নির্দেশ করে। তিনি এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থাপন করে, অন্য কোনো খাতে যদি সমান মাত্রার শুল্ক হ্রাস সম্ভব হয়, তবে তা দেখাতে আহ্বান জানান।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে শুল্ক হ্রাসের বিশদ প্রকাশ করে। শুল্কের হ্রাসের ফলে ৩০,০০০ টাকার বেশি মূল্যের আমদানি করা প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক পাঁচ হাজার পাঁচশো টাকা কমবে বলে অনুমান করা হয়েছে। একইভাবে, ৩০,০০০ টাকার নিচে মূল্যের ফোনের দাম প্রায় এক হাজার পাঁচশো টাকা হ্রাস পাবে। এই হিসাবটি এনবিআরের বিশ্লেষণ ভিত্তিক এবং বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দাম হ্রাসের তদারকি ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ভোক্তা অধিকার সংস্থা একত্রে কাজ করবে। ফয়েজ আহমেদ উল্লেখ করেন, ৩০,০০০ টাকার নিচের অধিকাংশ ফোন দেশীয় উৎপাদন, আর ৩০,০০০ টাকার উপরে মূল্যের ফোনগুলো মূলত বিদেশ থেকে আনা হয়। বর্তমান সময়ে মুঠোফোন ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদে শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে তাদের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের দাবিগুলো পূরণ করা হয়েছে বলে ফয়েজ আহমেদ জানান। ব্যবসায়ীরা যে স্টকে থাকা ফোনগুলোকে বৈধ করা হয়েছে, এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে কোনো ফোন ব্লক হবে না, এই সিদ্ধান্তটি বাজারে স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদিও এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে, তবু সড়কে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়া বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের বিরোধী হিসেবে বিবেচিত হবে।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ, টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ এবং আইসিটি বিভাগের শ্বেতপত্রিকায় কাজ করা বিশ্লেষকগণও উপস্থিত ছিলেন। তারা শুল্ক হ্রাসের সম্ভাব্য বাজার প্রভাব, ভোক্তা সুবিধা এবং শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন।
শুল্ক হ্রাসের ফলে মোবাইল ফোনের দাম কমে, গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং বাজারে নতুন মডেল প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে, শুল্ক হ্রাসের পরেও স্থানীয় উৎপাদনের সক্ষমতা ও গুণগত মান বজায় রাখার জন্য নীতি নির্ধারকদের নজরদারি প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ভোক্তা অধিকার সংস্থার সমন্বয়ে দাম হ্রাসের তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছে। শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে উচ্চ মূল্যের ফোনের দাম প্রায় পাঁচ হাজার টাকা, নিম্ন মূল্যের ফোনের দাম প্রায় এক হাজার পাঁচশো টাকা কমবে বলে প্রত্যাশা। এই নীতি ব্যবসায়িক প্রতিবাদ সমাধান এবং বাজারে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



