মেটা কোম্পানি তার রিয়ালিটি ল্যাবস বিভাগে প্রায় দশ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে প্রায় এক হাজারের বেশি কর্মী প্রভাবিত হবে এবং এটি কোম্পানির সামগ্রিক পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
রিয়ালিটি ল্যাবস বর্তমানে প্রায় পনেরো হাজার কর্মী নিয়ে কাজ করে এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও মেটাভার্স পণ্যের উন্নয়নের মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। এই বিভাগে ছাঁটাই করা মানে কোম্পানির ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি দৃষ্টিভঙ্গিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা।
ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি মেটা কয়েকটি গেমিং স্টুডিও বন্ধ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্মেচার স্টুডিও, টুইস্টেড পিক্সেল, সানজারু এবং ওকুলাস স্টুডিওস সেন্ট্রাল টেকনোলজি, যা পূর্বে ভিআর গেমের উন্নয়নে কাজ করত। এই স্টুডিওগুলো বন্ধ হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোও থেমে যাবে।
কোম্পানির চিফ টেকনোলজি অফিসার এবং রিয়ালিটি ল্যাবসের প্রধান অ্যান্ড্রু বসওর্থ ১৪ জানুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখোমুখি সভা আহ্বান করেন। তিনি এই সভাকে বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত মিটিং হিসেবে উল্লেখ করেন এবং কর্মী ও স্ট্রাটেজিক দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করার ইঙ্গিত দেন।
ছাঁটাইয়ের ফলে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) দলগুলো প্রভাবিত হবে না বলে জানানো হয়েছে। মেটা এআর গ্লাস এবং কন্ট্রোলারসহ ভবিষ্যৎ পণ্যের উন্নয়নে বড় অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং এই বিভাগে কর্মীসংখ্যা অপরিবর্তিত থাকবে।
কোম্পানি উল্লেখ করেছে যে ছাঁটাই থেকে সঞ্চিত তহবিল সরাসরি এআর গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। ফলে এআর প্রযুক্তির জন্য আর্থিক সম্পদ বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারে নতুন পণ্য প্রকাশের সম্ভাবনা বাড়বে।
এই পদক্ষেপের পেছনে মেটার সাম্প্রতিক কৌশলগত পরিবর্তন রয়েছে। ২০২১ সালে মেটা তার পুরো ব্র্যান্ডকে মেটাভার্সের দিকে ঘুরিয়ে নেয়ার পর থেকে কোম্পানি এআই উন্নয়নে বিশাল সম্পদ বরাদ্দ করছে।
অক্টোবর মাসে মেটা মেটাভার্সের প্রধান বিশাল শাহকে এআই পণ্য বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্থানান্তরিত করে। এই পরিবর্তনটি এআইকে কোম্পানির মূল অগ্রাধিকারে রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
গত বছর মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস গঠন করে এবং স্কেল এআই থেকে আলেকজান্ডার ওয়াংকে নিয়োগ করে গবেষণা ক্ষমতা বাড়ায়। এই ল্যাবস এআই গবেষণার শীর্ষ স্তরে পৌঁছানোর জন্য গঠন করা হয়েছে।
কোম্পানি অন্যান্য ল্যাবের শীর্ষ গবেষকদের আকর্ষণ করতে উচ্চ বেতনের প্যাকেজ প্রদান করছে। এতে বিশ্বব্যাপী এআই ট্যালেন্টকে মেটার সঙ্গে যুক্ত করা সহজ হয়েছে এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির গতি ত্বরান্বিত হয়েছে।
মেটা এই ছাঁটাই ও স্টুডিও বন্ধের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। কোম্পানি থেকে কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি পাওয়া যায়নি এবং প্রশ্নের উত্তর দিতে অনুরোধের সাড়া দেয়া হয়নি।
এই পুনর্গঠন ভিআর শিল্পে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে, কারণ রিয়ালিটি ল্যাবসের কর্মীসংখ্যা কমে যাওয়ায় উন্নয়ন গতি ধীর হতে পারে। তবে এআর ক্ষেত্রে তহবিলের বৃদ্ধি নতুন পণ্য ও সেবা বাজারে আনার সম্ভাবনা বাড়াবে।
সারসংক্ষেপে, মেটা রিয়ালিটি ল্যাবসের কর্মীসংখ্যা প্রায় দশ শতাংশ কমিয়ে এক হাজারের বেশি কর্মীকে প্রভাবিত করবে, কিছু গেমিং স্টুডিও বন্ধ করবে এবং সঞ্চিত তহবিলকে এআর গবেষণায় পুনঃবিনিয়োগ করবে। একই সঙ্গে কোম্পানি এআই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্গঠন করছে।



