ভারতের একদা ওপেনার ও প্রাক্তন নির্বাচক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত, জাতীয় একদিনের দল থেকে আয়ুশ বাদোনির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করেছেন। তিনি গৌতম গাম্ভীরের কোচিং সিদ্ধান্তে ‘স্বজনপ্রীতি’ দেখার অভিযোগে দল নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
বদোনি এই সপ্তাহে দলের তালিকায় যোগ পান, যখন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান একদিনের সিরিজের প্রথম ম্যাচে বোলিং দায়িত্বে থাকা ওয়াশিংটন সুন্দার বাম পাশের পাঁজরে আঘাত পেয়ে বাকি দুই ম্যাচ থেকে বাদ পড়েন। সুন্দারের অনুপস্থিতিতে দলকে বিকল্প হিসেবে বাদোনিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আয়ুশ বাদোনি মূলত ব্যাটসম্যান, তবে অফ‑স্পিনে কিছুটা অবদান রাখতে সক্ষম বলে বিবেচিত। তার লিস্ট ‘এ’ রেকর্ডে ২২ ইনিংসের মধ্যে ৬৯৩ রান, গড় ৩৬.৪৭ এবং একটি শতক রয়েছে। এছাড়া তিনি পঞ্চান্নটি পঞ্চাশের পারফরম্যান্সও রেকর্ড করেছেন, যা তাকে মাঝারি স্তরের ব্যাটিং শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে।
৫০‑ওভার ফরম্যাটে বাদোনি ২০ ম্যাচে ১৮টি উইকেট নেয়া হয়েছে, সর্বোচ্চ ২৯ রানে তিনটি উইকেটের পারফরম্যান্স তার বোলিং দক্ষতা নির্দেশ করে। তবে তার ব্যাটিং রেকর্ডে উল্লেখযোগ্য বড় স্কোরের অভাব রয়েছে, যা শ্রীকান্তের সমালোচনার মূল ভিত্তি।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) তিনি লাক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের হয়ে চার মৌসুমে মোট ৫৬ ম্যাচে ৯৬৩ রান সংগ্রহ করেছেন, যার স্ট্রাইক রেট ১৩৮.৫৬। যদিও কোনো শতক করেননি, ছয়টি পঞ্চাশের পারফরম্যান্স এবং সর্বোচ্চ ৭৪ রান তার আক্রমণাত্মক ক্ষমতা প্রকাশ করে।
ডোমেস্টিক ক্রিকেটে দিল্লি দলের হয়ে তিনটি ইনিংসে ২২ ওভার বোলিং করে চারটি উইকেট নেয়া হয়েছে, যা তার অলরাউন্ডার হিসেবে ব্যবহারযোগ্যতা নির্দেশ করে। তবুও শ্রীকান্তের মতে, এই পরিসংখ্যানগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্থায়ী স্থান পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
শ্রীকান্তের মন্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “আকসার প্যাটেল, নিতেশ রেড্ডি ও রুতুরাজ গায়কোয়ার্ডের মতো অভিজ্ঞ স্পিনিং অলরাউন্ডারদের উপেক্ষা করে বাদোনিকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা যুক্তিযুক্ত নয়।” তিনি গাম্ভীরের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর ভিত্তি করে বলে সমালোচনা করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বাদোনির বর্তমান পারফরম্যান্সে জাতীয় দলে স্থান পাওয়ার কোনো যুক্তি দেখা যায় না। আইপিএল এবং একদিনের ক্রিকেটের চাহিদা ভিন্ন, এবং তিনি উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেননি।” এই বক্তব্যে শ্রীকান্তের মূল অভিযোগ স্পষ্ট: নির্বাচনে মানদণ্ডের অভাব।
শ্রীকান্তের মতে, দল নির্বাচনের সময় সেন্স এবং পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর নয়। তিনি গাম্ভীরকে আহ্বান জানান, ভবিষ্যতে নির্বাচনে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারদের অগ্রাধিকার দেওয়া হোক, যাতে দলের সামগ্রিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।
ভারতের একদিনের সিরিজ এখনো নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলমান, এবং বাকি দুই ম্যাচে বাদোনি কীভাবে পারফর্ম করবেন তা নজরে থাকবে। শ্রীকান্তের সমালোচনা দলের নির্বাচনী নীতি নিয়ে আলোচনা উস্কে দিয়েছে, এবং গাম্ভীরের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোতে এই মতামত কতটা প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে।
এই বিতর্কের মধ্যে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনী কমিটি এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে শ্রীকান্তের প্রকাশিত উদ্বেগগুলো ক্রিকেট প্রেমিক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
সারসংক্ষেপে, শ্রীকান্তের গাম্ভীরের ‘স্বজনপ্রীতি’ অভিযোগ এবং বাদোনির নির্বাচনের প্রতি সমালোচনা, দলের পারফরম্যান্স এবং নির্বাচনী নীতির ওপর নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দিয়েছে। পরবর্তী ম্যাচে বাদোনির পারফরম্যান্স এবং গাম্ভীরের সিদ্ধান্তের পরিণতি, ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



