গাজায় বাংলাদেশ থেকে সামরিক বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে সরকার এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি, এ কথা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকালের প্রেস ব্রিফিংতে জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, গাজা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা এখনো আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মতে, গাজায় সেনা পাঠানোর বিষয়ে তিনটি মূল শর্ত নির্ধারিত হয়েছে। প্রথম শর্ত হল, বাংলাদেশ কোনো সামরিক সংঘাতে অংশগ্রহণ করবে না। দ্বিতীয় শর্তে বলা হয়েছে, এমন কোনো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে না যাদের সঙ্গে আমাদের সংলাপ করা যায় না। তৃতীয় শর্তে স্পষ্ট করা হয়েছে, যদি এই শর্তগুলো পূরণ না হয়, তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শর্তগুলো পরিষ্কার এবং সেগুলো মেনে চলা না হলে গাজায় সেনা পাঠানো হবে না।
মিয়ানমার সীমান্তে চলমান সংঘাত সম্পর্কেও তৌহিদ হোসেন মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আরাকান আর্মি একটি অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠী হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ নেই। তাই মিয়ানমার সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয় এবং তা দীর্ঘমেয়াদে সমাধান করা হবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, প্রবাসীদের কাছে ভোটের ব্যালট শিগগিরই পৌঁছাবে। ভোটের পর বাংলাদেশ মিশন ডাকযোগে ব্যালট সংগ্রহের ব্যবস্থা করবে। তৌহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, পোস্টাল ভোটিং সংক্রান্ত কাজের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা সীমিত এবং মূলত ভোটারদের ব্যালট পৌঁছানো নিশ্চিত করা।
মিয়ানমার ইস্যুতে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘন্টা ঘন্টা আপডেট পায় না, তৌহিদ হোসেন এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় সবসময় সর্বশেষ তথ্য পেতে চেষ্টা করে, তবে তা সবসময় তৎক্ষণাৎ পাওয়া সম্ভব নয়।
অধিকন্তু, তৌহিদ হোসেন পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, এ বিষয়ে অগ্রগতির কোনো উল্লেখযোগ্য খবর না থাকলেও ভবিষ্যতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা জানানো হবে।
সংক্ষেপে, গাজায় সৈন্য পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; শর্ত পূরণ না হলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। মিয়ানমার সীমান্তে অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের জটিলতা রয়েছে এবং তা দ্রুত সমাধানযোগ্য নয়। পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা মূলত ব্যালটের সুষ্ঠু বিতরণে সীমাবদ্ধ। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা চলমান, তবে তা এখনও পর্যায়ে রয়েছে। এই সব বিষয়গুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।



