ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা শহরের এক জরুরি বৈঠকের পর প্রকাশিত বিবৃতিতে জানায়, দলটি পীর সাহেব চরমোনাই ঘোষিত ইসলামপন্থিদের একবক্স নীতি অনুসরণে এখনও অটল। দলটির যুগ্মমহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের মতে, পারস্পরিক আলোচনা চলমান এবং শীঘ্রই নীতির রূপরেখা স্পষ্ট হবে।
বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল একবক্স নীতির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও তার কাঠামো নির্ধারণ করা। গাজী আতাউর রহমান বৈঠকের শেষে বলেন, “আমাদের পারস্পরিক আলোচনা চলমান রয়েছে। ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই একবক্স নীতির রূপরেখা ও ধরণ স্পষ্ট হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ইসলামপন্থিদের একবক্স নীতি নিয়ে যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তা দেশ ও ইসলামের জন্য অত্যন্ত প্রেরণাদায়ক। ইনশাআল্লাহ জাতির প্রত্যাশা পূরণ হবে।”
একবক্স নীতি, যা পীর সাহেব চরমোনাই ঘোষিত, তার মূল লক্ষ্য ইসলামপন্থিদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা। গাজী আতাউর রহমান এই নীতির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “পীর সাহেব চরমোনাই ঘোষিত একবক্স নীতির লক্ষ্য হলো—ইসলামপন্থিদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের উচ্চপদস্থ নেতারা। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। অন্যান্য উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন সিনিয়র নায়েব আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান এবং মাওলানা আহমদ আব্দুল কায়ুমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
বৈঠকের আলোচনায় উল্লেখ করা হয় যে, রাজনৈতিক মহল, সাংবাদিক এবং দেশপ্রেমিক জনগণের কাছ থেকে একবক্স নীতি নিয়ে বাড়তে থাকা আগ্রহ দলকে প্রেরণা দিচ্ছে। গাজী আতাউর রহমানের মতে, এই সমর্থন ইসলামপন্থিদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আইএবির এই অবস্থান পূর্বের প্রকাশনাগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে দলটি ২০২৫ সালের শেষের দিকে ইসলামিক শাসনের আহ্বান জানিয়েছিল এবং সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামী সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। একবক্স নীতির বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত রূপ না পেয়েও, দলটি নিশ্চিত করেছে যে, নীতির কাঠামো শীঘ্রই প্রকাশিত হবে এবং তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।
বৈঠকের শেষে গাজী আতাউর রহমান উল্লেখ করেন, “ইসলামপন্থিদের একবক্স নীতি নিয়ে যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তা দেশ ও ইসলামের জন্য অত্যন্ত প্রেরণাদায়ক। ইনশাআল্লাহ জাতির প্রত্যাশা পূরণ হবে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলটি দেশের নাগরিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর সমর্থন অর্জনের লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
আইএবির একবক্স নীতি, যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে ইসলামিক শক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন রাজনৈতিক জোটের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, জাতীয় নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে এই নীতি কীভাবে প্রয়োগ হবে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একবক্স নীতি নিয়ে অটল অবস্থান বজায় রেখেছে এবং শীঘ্রই নীতির রূপরেখা প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। দলটি রাজনৈতিক, সাংবাদিক এবং জনগণের সমর্থনকে শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে, যা দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংহতি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে নীতির বাস্তবায়ন কীভাবে দেশের রাজনৈতিক সমতা ও নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



