বাংলাদেশ ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন জামাল ভূঁইয়া বুধবার ঢাকায় ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে পেলেন, যা কোকারা-কলার “ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর”এর অংশ হিসেবে বিশেষ ফ্লাইটে হাজির হয়। ট্রফি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে নিরাপদে রেডিসন ব্লু হোটেলে স্থানান্তরিত হয়।
ট্যুরের সঙ্গে ছিলেন ব্রাজিলের প্রাক্তন মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা, যিনি ২০০২ সালের বিশ্বকাপ বিজয়ী দলের সদস্য। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বিএফএফ) সভাপতি তাবিথ আউল এবং জামাল ভূঁইয়া ট্রফি গ্রহণের সময় উপস্থিত ছিলেন, এরপর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে হোটেলে পৌঁছানো হয়।
জামাল ট্রফি দেখার মুহূর্তকে “অসাধারণ” বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “গিলবার্তো সঙ্গে ট্রফি নিয়ে আসা, তাই এটি আমার প্রথমবার সরাসরি দেখা। সত্যিই ভালো লাগল।” তার মুখে উচ্ছ্বাস স্পষ্ট, যা তার ফুটবল জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্তে রূপান্তরিত হয়েছে।
ট্রফির আকার ও ওজন নিয়ে জামাল বিস্মিত হন। তিনি প্রথমে ট্রফি ছোট মনে করলেও, বাস্তবে তা প্রত্যাশার চেয়ে বড় এবং প্রায় সাত কিলোগ্রাম বিশুদ্ধ স্বর্ণের তৈরি, এ কথা জানার পর তিনি “স্টার-স্ট্রাক” অনুভব করেন। এই শারীরিক বৈশিষ্ট্য তার জন্য ট্রফিটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
ব্রাজিলের প্রতি জামালের অনুরাগ শৈশব থেকেই গড়ে উঠেছে। তিনি জানান, “আমি শৈশব থেকে ব্রাজিলের ভক্ত, প্রথম পছন্দের খেলোয়াড় ছিলেন রোনালদো। ২০০২ সালের দল আমাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল, তখন আমি মাত্র বারো বছর বয়সী ছিলাম।” রোনালদোর সঙ্গে রিভালডো, রোনাল্ডিনহো এবং গিলবার্তো সিলভা ছিলেন সেই যুগের প্রধান নায়ক।
জামাল উল্লেখ করেন যে টেলিভিশনে ট্রফি দেখা এক ধরনের অভিজ্ঞতা, তবে বাস্তবে ট্রফি সামনে থাকা সম্পূর্ণ ভিন্ন অনুভূতি দেয়। “টিভিতে দেখা একটাই, কিন্তু আপনার সামনে ট্রফি থাকা যেন স্পর্শ করা যায়,” তিনি বলেন, যা তার হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে।
ব্রাজিলের প্রতি তার ভালবাসার পাশাপাশি, জামাল ডেনমার্কের প্রতি স্বাভাবিক সমর্থন প্রকাশ করেন, যা তার জন্মভূমি। তিনি স্বীকার করেন যে জন্মভূমি হিসেবে ডেনমার্কের সঙ্গে তার সংযোগ রয়েছে, তবে ফুটবলে তার হৃদয় সবসময় ব্রাজিলের দিকে ঝুঁকে থাকে।
এই ভিজিটের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি প্রথমবারের মতো সরাসরি দর্শকের সামনে এসেছে, যা স্থানীয় ফুটবল উত্সাহীদের জন্য অনুপ্রেরণার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। ট্রফি ট্যুরের অংশ হিসেবে ঢাকায় এই বিশেষ প্রদর্শনী ফুটবলের প্রতি দেশের উত্সাহকে আরও উজ্জীবিত করবে।



