সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসকরা ২০২৫ সালের ইদ আল ইতিহাদ (জাতীয় দিবস) উপলক্ষে ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দীর উপর রাজকীয় ক্ষমা প্রদান করেছেন। এই সিদ্ধান্তটি দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ইদ আল ইতিহাদ উদযাপনের অংশ হিসেবে এই ক্ষমা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই দিনটি প্রতি বছর ২ ডিসেম্বর পালিত হয় এবং ১৯৭১ সালে এক পতাকার অধীনে আমিরাতের ঐতিহাসিক ঐক্যকে স্মরণ করে।
ইদ আল ইতিহাদ এবং অন্যান্য জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসবের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসকরা সাধারণত বিশাল সংখ্যক বন্দীর উপর ক্ষমা প্রদান করেন। এই প্রথা দেশের মানবিক মূল্যবোধের প্রকাশ এবং সমাজে পুনরায় একীকরণ, পারিবারিক পুনর্মিলনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে চালু।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের বৃহৎ পরিসরের ক্ষমা দু’দেশের কূটনৈতিক বন্ধনকে দৃঢ় করে এবং শ্রমিক সম্প্রদায়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করে।
ক্ষমা প্রাপ্ত ৪৪০ বাংলাদেশি নাগরিককে এখন তাদের পূর্বের জীবনে ফিরে যাওয়ার, পরিবারে পুনর্মিলন করার এবং সমাজে পুনরায় সংহত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি তাদের জন্য একটি নতুন সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার এই উদ্যোগের মাধ্যমে মানবিক সহানুভূতি ও দয়ার নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে দেশের নীতি-নির্ধারণে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
এই ক্ষমা কার্যক্রমের আওতায় পূর্বে বিভিন্ন অপরাধের জন্য দণ্ডিত বাংলাদেশি নাগরিকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট অপরাধের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে যে, সকল দণ্ডিতদের মধ্যে মানবিক বিবেচনা এবং পুনর্বাসনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়েছে।
আঞ্চলিক পর্যায়ে, এই ধরনের ক্ষমা প্রথা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও দেখা যায়, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে বৃহৎ পরিসরে এবং নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রথা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরে প্রশংসা পেয়েছে।
একজন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকের মতে, “এই ধরনের ক্ষমা কেবল মানবিক দিক থেকে নয়, বরং শ্রমিক বাজারের স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় দিবসের এই উদযাপন এবং ক্ষমা ঘোষণার সময়, দু’দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে চলেছে। দু’দেশের বাণিজ্যিক ও শ্রমিক সম্পর্কের পরিসর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনাও চলছে।
বাংলাদেশ সরকারও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে, ক্ষমা প্রাপ্ত নাগরিকদের পুনর্বাসন ও সামাজিক সংহতিতে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ইতিমধ্যে পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং পরিবারিক পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করবে।
সারসংক্ষেপে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০২৫ ইদ আল ইতিহাদে ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দীর উপর রাজকীয় ক্ষমা একটি মানবিক উদ্যোগ, যা কূটনৈতিক বন্ধনকে মজবুত করে এবং শ্রমিক সম্প্রদায়ের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবিক নীতি ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।



