22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসুবর্ণচর উপজেলায় শিক্ষক ছাত্রীর সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার পর মাদ্রাসায় অগ্নিসংযোগ

সুবর্ণচর উপজেলায় শিক্ষক ছাত্রীর সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার পর মাদ্রাসায় অগ্নিসংযোগ

নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় চরজব্বর ইউনিয়নের উত্তর চর হাসান গ্রামে অবস্থিত সৈয়দ মুন্সি বাড়ি মাদ্রাসায় ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রধান শিক্ষক পালিয়ে যাওয়ার পর মাদ্রাসার অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনা মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঘটেছে, ফলে মাদ্রাসা অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে রয়েছে।

মাহমুদুল হাসান, ৩৫ বছর বয়সী পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, তিনি ও ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় পড়ার সময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। শিক্ষার্থীটি তখন মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে অন্য একটি মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি।

৭ জানুয়ারি, মাহমুদুল শিক্ষার্থীর সঙ্গে পালিয়ে যান। পালানোর পর পরিবার জানায় যে, তারা শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। ঘটনাটির পর, শিক্ষার্থীর আত্মীয়স্বজন মাদ্রাসার দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন এবং প্রায় এক সপ্তাহের জন্য মাদ্রাসা বন্ধ থাকে।

মাদ্রাসার বন্ধ থাকা অবস্থায়, মঙ্গলবার মধ্যরাতে অজানা কেউ বা কেউ মাদ্রাসার কাঠামোতে আগুন জ্বালায়। অগ্নিকাণ্ডের সময় মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকায় কোনো প্রাণহানি হয়নি। স্থানীয় পুলিশ ও দমকল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডের পর, চরজব্বর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ঘটনাটির তথ্য জানিয়ে বলেন যে, মাদ্রাসার বন্ধ থাকা এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় কোনো ছাত্রছাত্রী না থাকায় বড় ক্ষতি এড়ানো যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মাদ্রাসার বন্ধ থাকা সময়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

পুলিশের ওয়ান-ইন-চিফ, চরজব্বর থানা ওসি লুৎফুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগে ভুক্তভোগীর পরিবার সুধারাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। একই সঙ্গে, অগ্নিকাণ্ডের জন্যও লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে, দমকল বিভাগ অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ণয়ের জন্য বিশ্লেষণ করছে।

মাদ্রাসার বন্ধ থাকা ও অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারায় ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে।

আইনি দিক থেকে, পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ যথাযথ তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে, যদি কোনো সন্দেহভাজন চিহ্নিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে দণ্ডনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মাদ্রাসা পুনরায় চালু হওয়ার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন, তাই ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে তা অনুসরণ করা হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments