জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলের নতুন নামকরণ করা হয়েছে, যাতে ৪২তম আবর্তনের চারুকলা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষিকাকে সম্মান জানানো যায়। জান্নাতুল ফেরদৌস, যিনি ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে জাকসু নির্বাচনের সময় পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন। তার স্মরণে সিনেট হলের নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত অফিস আদেশে জানায়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভায় সিনেট হলের নতুন নাম ‘জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট হল’ রাখা হয়েছে। এই আদেশে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমানের স্বাক্ষর রয়েছে, যা নামকরণ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করে।
জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যু ঘটেছিল যখন তিনি জাকসু নির্বাচনের ভোট গণনার দায়িত্বে গিয়েছিলেন। সকাল আটটায় তিনি হঠাৎ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে উপস্থিত চিকিৎসকগণ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফেরদৌস ৪২তম আবর্তনের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি ছিলেন এবং স্নাতকোত্তর শেষে একই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি শিক্ষাদানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজেও সক্রিয় ছিলেন, বিশেষ করে জাকসু নির্বাচনের সময় পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার কর্মজীবন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি নিবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর স্মরণে রয়ে গেছে।
সিনেট হলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের বিশেষ সভায় গৃহীত হয়, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জান্নাতুল ফেরদৌসের অবদান ও স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে এই পদক্ষেপের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করা হয়। নামকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষকমণ্ডলীর প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চায়।
এই পরিবর্তনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়ও প্রভাব ফেলবে। নতুন নামকরণে সংশ্লিষ্ট হলের সাইনেজ, অফিসিয়াল নথি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপডেট করা হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে এই হলটি বিভিন্ন শৈক্ষিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে ব্যবহার করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এমনই সম্মানসূচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে শিক্ষকমণ্ডলীর অবদানকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দেওয়া যায়। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের জন্য স্মরণীয় কর্মসূচি ও সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে জান্নাতুল ফেরদৌসের শিক্ষাদানের নীতি ও নৈতিকতা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায়।
শিক্ষা সংক্রান্ত এই ধরনের স্মরণীয় উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করতে চায়। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি উদাহরণস্বরূপ ঘটনা, যেখানে তারা শিখতে পারে কীভাবে একজন শিক্ষক তার পেশার প্রতি নিবেদন ও মানবিক দায়িত্ব পালন করে।
আপনার ক্যাম্পাসে কি এমন কোনো স্মরণীয় উদ্যোগের প্রয়োজন আছে? যদি হ্যাঁ, তবে কীভাবে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন, তা নিয়ে ভাবা মূল্যবান।



