ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন (ডিইউসিইউ) আগামী রেফারেন্ডাম ও জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এক মাসব্যাপী প্রচারণা চালু করেছে। ইউনিয়ন আজ ক্যাম্পাসের ডিইউসিইউ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভোটারদের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সমর্থন জোরদার করা।
সম্মেলনে ছাত্র নেতারা মোট পনেরোটি কার্যক্রমের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এদের মধ্যে রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরাসরি জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সফর, অনলাইন প্রচারণা, ছাত্র সংগঠন, সাংবাদিক, কর্মী ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের সঙ্গে বিনিময় সভা, আলোচনা অনুষ্ঠান এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মিডিয়া কন্টেন্ট প্রকাশ।
ডিইউসিইউ সকল অ্যান্টি‑ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দলকে, যার মধ্যে জামায়াত‑ই‑ইসলাম, বিএনপি ও এনসিপি অন্তর্ভুক্ত, পাশাপাশি ছাত্র গোষ্ঠী, পেশাজীবী সংস্থা, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে একত্রিত হয়ে রেফারেন্ডামে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সমর্থন গড়ে তুলতে আহ্বান জানায়।
প্রচারণার অংশ হিসেবে স্ট্রিট থিয়েটার ও মিম শো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা জনসচেতনতা বৃদ্ধি করবে। এছাড়া ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনকারী বিতর্ক, ‘জুলাইয়ের শিকারের চিন্তা’ শিরোনামের আলোচনা এবং অন্যান্য বিতর্কমূলক সেশনও অনুষ্ঠিত হবে।
ডিইউসিইউ একটি প্রেস রিলিজে উল্লেখ করেছে, এই কার্যক্রমগুলো গণতন্ত্র রক্ষা, জনমতকে সম্মান ও জনগণকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। রেফারেন্ডামের পূর্বে দেশের সর্বত্র সচেতনতা বাড়ানোই মূল উদ্দেশ্য।
প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট কাঠামোকে চিরতরে ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে, ফলে পিলখানা, আল্লামা সায়েদীর রায়ের প্রতিবাদ, শাপলা চত্বর এবং জুলাই উত্থানসহ অতীতের গণহত্যা ও সহিংসতা আর না ঘটার নিশ্চয়তা থাকবে।
‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় ডিইউসিইউকে জুলাই চ্যার্টার বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করবে বলে দাবি করা হয়েছে। এই চ্যার্টার অনুযায়ী রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, কোনো ব্যক্তিকে দুই মেয়াদে বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে বাধা এবং সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন শক্তিশালী করা হবে।
এই ক্যাম্পেইন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি আনতে পারে। রেফারেন্ডামের ফলাফল যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে সরকারী কাঠামোর সংস্কার ও ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনার সূচনা হবে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ডিইউসিইউ উল্লেখ করেছে, ক্যাম্পেইনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে রেফারেন্ডামের আগে শেষ পর্যন্ত সকল পরিকল্পিত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে এবং ফলাফল অনুসারে পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করা হবে।



