ঢাকার এক সরকারি অনুষ্ঠানে বিদেশী বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে যাতে হঠাৎ করে বিদেশি নাগরিকদের দেশে প্রবেশের ঝুঁকি কমে।
উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন পোস্টাল ব্যালটের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, সরকার ইতিমধ্যে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, পোস্টাল ব্যালটের অপব্যবহার সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক নয়, তবে এ বিষয়ে মিশনের সরাসরি হস্তক্ষেপের সীমা রয়েছে।
নির্বাচনের সময় বিভিন্ন ধরনের প্রচেষ্টা ও হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা থাকতে পারে, এ কথা তিনি জোর দিয়ে বলেন। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধের মাধ্যমে সম্ভাব্য হঠাৎ আগমনের ঝুঁকি কমাতে চেয়েছে। এই পদক্ষেপটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তৌহিদ হোসেনের মন্তব্যে দেখা যায়, বাংলাদেশ তার প্রতিরক্ষা শক্তি শক্তিশালী করতে চাইছে। তিনি উল্লেখ করেন, চীনের ড্রোন উৎপাদন কারখানা সম্পর্কিত কোনো উদ্যোগে বাংলাদেশ এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না যা অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সাম্প্রতিক হতাহতের ঘটনার পর ঢাকা মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তৌহিদ হোসেন বলেন, মিয়ানমার সরকার আরাকান আর্মিকে বৈধ হিসেবে স্বীকার করে না, তবে বাংলাদেশ এই বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেনি। তিনি যোগ করেন, প্রথম পর্যায়ের আলোচনায় সময় বেশি লেগেছিল এবং এখনো সংকট সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি প্রয়োজন।
গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিবাহিনীতে সেনা পাঠানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের পরও বাংলাদেশ এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ গাজায় যুদ্ধের অংশগ্রহণ করবে না। তিনি তিনটি শর্ত উল্লেখ করেন, যেগুলো পূরণ না হলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার নির্বাচনী সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিসা নীতি কঠোর করেছে, পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করছে এবং সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র নীতি অনুসরণ করছে। ভবিষ্যতে এই পদক্ষেপগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



