১৯ জানুয়ারি ১৯৯২-এ স্যান্ডেন্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আলেক্সান্দ্রে রকওয়েলের স্বতন্ত্র কমেডি ‘ইন দ্য স্যুপ’ প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় উন্মোচিত হয়। স্টিভ বাসকেমি, সিমোর ক্যাসেল এবং জেনিফার বিলস প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ফেস্টিভ্যালে এই ছবিটি ড্রামাটিক ক্যাটেগরির গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার জিতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করে।
প্রিমিয়ার রাতের দর্শকরা ছবির অদ্ভুত হাস্যরসের সঙ্গে হেসে-খেলতে খেলতে তালি দিল। শিল্প জগতের অংশগ্রহণকারীরা ছবির অপ্রচলিত পদ্ধতি ও তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গকে প্রশংসা করে। স্যান্ডেন্সের ভিড়ের মধ্যে এই রকম প্রতিক্রিয়া ছবির স্বতন্ত্রতা প্রকাশ করে।
‘ইন দ্য স্যুপ’ একটি অন্ধকারময় হাস্যরসের মিশ্রণ, যেখানে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের জটিলতা ও আর্থিক সংগ্রামকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। রকওয়েল এবং টিম কিসেল রচিত স্ক্রিপ্টটি ৫০০ পৃষ্ঠার বিশাল স্পেক স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে গল্পের মূল কাঠামো গড়ে তুলেছে। ছবিটি স্বতন্ত্র শৈলীতে স্বাধীন চলচ্চিত্রের স্বপ্ন ও বাস্তবতার মধ্যে টানাপোড়েনকে চিত্রিত করে।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে নিউ জার্সির এক ছোট সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেয়া চলচ্চিত্র নির্মাতা আদোলফো রোল্লো, যাকে স্টিভ বাসকেমি অভিনয় করেছেন। তিনি তার বিশাল স্ক্রিপ্ট বিক্রির জন্য একটি ক্লাসিফাইড বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন, যা তার অপ্রত্যাশিত যাত্রার সূচনা করে। এই বিজ্ঞাপনটি তাকে এক অদ্ভুত চরিত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।
বিজ্ঞাপনটি দেখেন জো, যাকে সিমোর ক্যাসেল অভিনয় করেছেন, যিনি নিজেকে এক ধরণের চতুর চোর ও স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করেন। জো তার নিজের স্বার্থে আদোলফোর স্ক্রিপ্টকে একটি উচ্চমানের শিল্পকর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। তিনি আদোলফোর কাছে ২৫ লক্ষ ডলারের বাজেটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে দ্রুত নগদ অর্থ সংগ্রহের পথে ধাক্কা দেন।
জো একজন স্বল্পমেয়াদী আর্থিক সুযোগের সন্ধানী, যার লক্ষ্য নিজের নামের সঙ্গে একটি চিরস্থায়ী চিহ্ন রেখে যাওয়া। যদিও তিনি আদোলফোর স্ক্রিপ্টের বিষয়বস্তু পুরোপুরি বুঝতে পারেন না, তবু তিনি এটিকে এমন এক শিল্পকর্ম হিসেবে দেখেন যা ভবিষ্যতে মূল্যবান হতে পারে। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি আদোলফোর জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
বাজেটের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর জো আদোলফোকে একাধিক দ্রুত নগদ আয়ের পরিকল্পনায় যুক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ অফিসারের পোরশে চুরি করা এবং অন্যান্য অবৈধ পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করা। এই কর্মকাণ্ডগুলো ছবির হাস্যরসকে আরও তীক্ষ্ণ করে এবং চরিত্রগুলোর নৈতিক দ্বন্দ্বকে উন্মোচিত করে।
আদোলফো ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেন যে চলচ্চিত্র নির্মাণে শুধুমাত্র চিত্রনাট্য নয়, তহবিল সংগ্রহের দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে আর্থিক দিকটি তাকে তার সৃজনশীল স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করে। এই পরিবর্তন তার চরিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করে এবং গল্পের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চিত্রের মধ্যে একটি রোমান্টিক উপকথা রয়েছে, যেখানে আদোলফো তার প্রতিবেশী লাতিন মেয়ের (জেনিফার বিলস) প্রতি আকৃষ্ট হন। তিনি তার প্রতি ফুল পাঠিয়ে তার হৃদয় জয় করার চেষ্টা করেন, যা তার আর্থিক উদ্যোগের সঙ্গে মিশে যায়। এই প্রেমের লাইনটি ছবির সামগ্রিক মেজাজকে হালকা করে এবং চরিত্রের মানবিক দিককে প্রকাশ করে।
‘ইন দ্য স্যুপ’ একটি অদ্ভুত মিশ্রণ, যেখানে অন্ধকারময় হাস্যরস, স্বপ্নের অনুসরণ এবং নৈতিক দ্বন্দ্ব একত্রে মিশে আছে। রকওয়েলের পরিচালনায় ছবিটি স্বতন্ত্র ভিজ্যুয়াল স্টাইল এবং তীক্ষ্ণ সংলাপের মাধ্যমে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। যদিও এটি শিল্পকেন্দ্রিক দর্শকদের জন্য উপযুক্ত, তবে মূলধারার সিনেমা হলের জন্য তা এখনও সীমিত হতে পারে।
স্যান্ডেন্সে গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার জেতার পর ছবিটি আন্তর্জাতিক আর্ট-হাউস সার্কিটে প্রশংসিত হয়। সমালোচকরা এর স্বতন্ত্র কাহিনী ও অভিনয়ের প্রশংসা করে, তবে এটিকে বাণিজ্যিক সাফল্যের পথে অগ্রসর হতে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং বলে উল্লেখ করে। তবুও ছবিটি স্বাধীন চলচ্চিত্রের সৃজনশীলতা ও সাহসিকতার একটি উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
আলেক্সান্দ্রে রকওয়েল এবং টিম কিসেল এই ছবির মাধ্যমে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের জটিলতা ও আর্থিক দিককে হালকা হাস্যরসে উপস্থাপন করেছেন। তাদের স্ক্রিপ্টে চরিত্রগুলোর অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত ও অস্বাভাবিক পরিকল্পনা দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখে। এই কাজটি স্বাধীন চলচ্চিত্রের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে এবং ভবিষ্যৎ নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।
‘ইন দ্য স্যুপ’ এখনো স্বাধীন চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এর স্বতন্ত্র হাস্যরস, চমকপ্রদ প্লট এবং শিল্পের প্রতি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য একটি রেফারেন্স পয়েন্ট। স্যান্ডেন্সের পুরস্কার জয় করা এই ছবিটি স্বাধীন চলচ্চিত্রের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা উভয়ই তুলে ধরে।
সারসংক্ষেপে, ১৯৯২ সালের স্যান্ডেন্সে ‘ইন দ্য স্যুপ’ একটি অনন্য কমেডি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যা শিল্পের স্বপ্ন, আর্থিক সংগ্রাম এবং মানবিক সম্পর্ককে একত্রে মিশ্রিত করে। ছবির সাফল্য ও পুরস্কার স্বাধীন চলচ্চিত্রের সৃজনশীল শক্তিকে পুনরায় নিশ্চিত করে, যদিও তা মূলধারার বাজারে প্রবেশের পথে কিছু বাধার সম্মুখীন হতে পারে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজগুলো স্বাধীন চলচ্চিত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



