স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বুধবার (১৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সাতকানিয়া জেলায় বাইতুল ইজ্জতে অনুষ্ঠিত বর্ডার গার্ড ব্যুরোর ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের সমাপনী অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিতভাবে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য মোট ৮,৯৭,১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে দায়িত্বে রাখা হবে।
এই সমাবেশে রেকর্ড সংখ্যক ৩,০২৩ নবীন সৈনিক অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ২,৯৫০ জন পুরুষ ও ৭৩ জন নারী। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা এক হাজার হলেও, অস্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে এই বিশাল সংখ্যার রিক্রুটদের মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা সম্ভব হয়েছে।
উপদেষ্টা সৈন্যদের উদ্দেশ্য করে বললেন, শৃঙ্খলা হল সৈনিকের পরিচয়, এবং আদেশ ও দায়িত্ব পালনে কখনো পিছিয়ে না থাকা সত্যিকারের সৈনিকের গুণ। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, বর্ডার গার্ড ব্যুরো কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়; এটি করদাতার টাকায় চালিত একটি সরকারি সংস্থা, এবং সকল কর্মীকে কোনো অনৈতিক বা পক্ষপাতমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, উপদেষ্টা জানান যে বর্ডার গার্ডের ৩৭,৪৫৩ জন সদস্য ৬১টি উপজেলায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। তিনি দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের বড় শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে, এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, সাহস কেবল বিপদের মুখোমুখি হওয়া নয়, বরং অবৈধ আদেশকে প্রত্যাখ্যান করাও অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, বেশ কিছু রাজনৈতিক দল এখনও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপারে মন্তব্য করেনি, তবে পূর্বে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের ইতিহাস রয়েছে। উপদেষ্টার এই ঘোষণার পর, বিভিন্ন দল থেকে নিরাপদ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রত্যাশা প্রকাশিত হয়েছে।
বর্ডার গার্ডের বৃহৎ মানবসম্পদ এবং প্রশিক্ষণ অবকাঠামোর ব্যবহার, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে, রিক্রুট ব্যাচের বৃহৎ সংখ্যা এবং প্রশিক্ষণের দ্রুত সম্পন্ন হওয়া, নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
উপদেষ্টা শেষ কথা বলেন, সকল সৈনিককে পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে আহ্বান জানিয়ে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য তাদের অবদানকে গুরুত্ব দেন। এই ঘোষণার পর, নির্বাচনী কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করে, নির্বাচনের সময় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবে।



