স্যাক্স গ্লোবাল, যা স্যাক্স ফিফথ অ্যাভিনিউ এবং নেইম্যান মার্কাসের মালিক, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত ফ্ল্যাগশিপ স্টোরসহ সব শাখা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চ্যাপ্টার ১১ দাখিল করেছে। কোম্পানি জানিয়েছে যে, এই পদক্ষেপের ফলে দেউলিয়া প্রক্রিয়ার সময় দোকানগুলো বন্ধ না হয়ে গ্রাহকদের সেবা চালিয়ে যাবে।
একই সপ্তাহে, ম্যানহাটনের মিডটাউন অবস্থিত স্যাক্সের দ্বিতীয় তলায় শপিংকারী এক গ্রাহক দেখেছেন যে, জনপ্রিয় ডিপটিক ফ্র্যাগ্রেন্সের সব পণ্য স্টকে নেই। তিনি বস্টনের শাখায় ক্রিসমাসের পরেও পণ্য না পাওয়ার পর নিউ ইয়র্কে বিকল্প খুঁজে গিয়েছিলেন, কিন্তু কর্মচারীর উত্তর ছিল “সবই শেষ”। এই অভিজ্ঞতা শপিং মলে স্টক ঘাটতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।
দেউলিয়া রক্ষার অংশ হিসেবে, স্যাক্স গ্লোবাল ১.৭৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১.৩ বিলিয়ন পাউন্ড) মূলধন সংগ্রহ করেছে। এই তহবিলের প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে ব্রেসব্রিজ ক্যাপিটাল এবং পেন্টওয়াটার ক্যাপিটাল উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেউলিয়া প্রক্রিয়া চলাকালেও স্টোরগুলোকে চালু রাখতে সহায়তা করবে।
স্যাক্সের আর্থিক সমস্যার শিকড় ২০২৪ সালে নেইম্যান মার্কাসের ২.৭ বিলিয়ন ডলারের অধিগ্রহণে রয়েছে। তখনের ব্যবস্থাপনা দাবি করেছিল যে, এই মার্জার খরচ কমাবে এবং উভয় ব্র্যান্ডের সমন্বয় শক্তি বাড়াবে। তবে বাস্তবে, মার্জার থেকে প্রত্যাশিত সঞ্চয় এবং আয় বৃদ্ধি ঘটেনি।
মার্জার পর কোম্পানির ঋণভারের পরিমাণ বাড়ে, এবং একই সময়ে গ্রাহকের ক্রয় অভ্যাস পরিবর্তন হয়। ই-কমার্সের উত্থান এবং ভোক্তাদের অনলাইন শপিংয়ের দিকে ঝোঁক স্যাক্সের বিক্রয়কে প্রভাবিত করেছে। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে স্যাক্স ফিফথ অ্যাভিনিউ দ্বিঅঙ্কের ত্রৈমাসিক বিক্রয় হ্রাসের রিপোর্ট প্রকাশ করে।
অধিকন্তু, দেরিতে করা $১০০ মিলিয়ন সুদ পরিশোধের ব্যর্থতা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা আরও কঠিন করে তুলেছে। এই পরিশোধটি দেরি হওয়ার কারণ ছিল প্রায় $২.২ বিলিয়ন ঋণ, যা মার্জার অর্থায়নের জন্য নেওয়া হয়েছিল। সুদ পরিশোধ না হওয়ায় ঋণদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হয়েছে।
বিক্রেতা ও সরবরাহকারীদের কাছেও স্যাক্সের অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্টক ঘাটতি এবং সময়মত পেমেন্ট না হওয়ার ফলে সরবরাহ চেইনে চাপ বাড়ে, যা ভবিষ্যতে পণ্য সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
লাক্সারি রিটেইল সেক্টরে স্যাক্সের দেউলিয়া আবেদন শিল্পের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের প্রশ্ন তুলেছে। উচ্চ ঋণভার, মার্জার ব্যর্থতা এবং ডিজিটাল শপিংয়ের প্রতিযোগিতা একসাথে লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোর মুনাফা মার্জিনকে সংকুচিত করেছে।
ই-কমার্সের দ্রুত বৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের অভিজ্ঞতাভিত্তিক কেনাকাটার দিকে ঝোঁক লাক্সারি শপিং মলকে ঐতিহ্যগতভাবে দুর্বল করে তুলেছে। স্যাক্সের মতো ঐতিহ্যবাহী ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলোকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে, নতুবা বাজার শেয়ার হারাতে পারে।
দেউলিয়া প্রক্রিয়ার সময় স্যাক্স গ্লোবাল সম্ভবত সম্পদ বিক্রি, কর্মীসংখ্যা কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় শাখা বন্ধের মাধ্যমে খরচ কমানোর পরিকল্পনা করবে। তদুপরি, ঋণ পুনর্গঠন এবং নতুন মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে আর্থিক ভারসাম্য পুনঃস্থাপন করা হবে।
বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতাদের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে, কারণ দেউলিয়া প্রক্রিয়ার সময় সম্পদ মূল্যায়ন এবং ঋণ পুনর্গঠন জটিল হতে পারে। তবে তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদে স্টোর বন্ধ না হওয়া একটি ইতিবাচক সংকেত, যা গ্রাহক ও সরবরাহকারীর আস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, স্যাক্সের চ্যাপ্টার ১১ দাখিল লাক্সারি রিটেইল শিল্পের আর্থিক চাপের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। মার্জার ব্যর্থতা, ঋণভার এবং ডিজিটাল প্রতিযোগিতা একসাথে কোম্পানির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করেছে। পুনর্গঠন সফল হলে স্যাক্স পুনরায় বাজারে স্থিতিশীলতা পেতে পারে, তবে তা অর্জনের জন্য কৌশলগত পরিবর্তন এবং খরচ নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।



