ঢাকা সেগুনবাগিচার এন্টি‑করাপশন কমিশনের সদর দফতরে আজ প্রাক্তন কমিশনার মোঃ জাহুরুল হককে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময়কাল প্রায় দশটা ত্রিশ মিনিট থেকে একটা ত্রিশ মিনিট পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখানে তিনি নিজের স্ত্রীসহ উপস্থিত ছিলেন।
প্রশ্নোত্তরের শেষে জাহুরুল হক দফতর ত্যাগ করেন এবং বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেন না। এসিসি পাবলিক রিলেশনস অফিসার আকতারুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন, তবে অতিরিক্ত কোনো তথ্য শেয়ার করতে অস্বীকার করেন।
এসিসি বর্তমানে জাহুরুল হককে নিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ তদন্ত করছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে তিনি দায়ী ব্যক্তিদের থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের জন্য ক্ষমতা দুর্ব্যবহার করেছেন, রাজুক থেকে জালিয়াতি করে জমি অর্জন করেছেন, দুইটি বড় টেলিকম কোম্পানি থেকে বিশাল পরিমাণে ঘুষ গ্রহণ করেছেন এবং সেসব অর্থ বিদেশে লন্ডার করে বিভিন্ন দেশে সম্পদ সংগ্রহ করেছেন।
এই অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের জন্য গত বছর জানুয়ারি একটি তিন সদস্যের তদন্ত দল গঠন করা হয়। দলটির নেতৃত্বে এসিসি পরিচালক এসএমএম আখতার হামিদ ভূইয়া রয়েছেন। দলটি অভিযোগের মূল দিকগুলো বিশ্লেষণ করে প্রমাণ সংগ্রহে নিয়োজিত।
ডিসেম্বর ৩, ২০২৩-এ এসিসি জাহুরুল হক এবং অন্য পাঁচজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল টার্মিনেশন রেট ও রেভিনিউ শেয়ারিং অবৈধভাবে কমিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ৯,০০০ কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগে মামলা দায়ের করে। এই মামলায় উল্লেখিত আর্থিক ক্ষতি দেশের টেলিকম সেক্টরের রাজস্বের উপর বড় প্রভাব ফেলেছে।
হোম মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে জাহুরুল হকের পাসপোর্ট বাতিল করে এবং তার উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই পদক্ষেপগুলো তার বিদেশে সম্পদ লুকিয়ে রাখার সন্দেহের সঙ্গে যুক্ত।
জাহুরুল হক পূর্বে জেলা ও সেশন বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিডিআর গণহত্যা মামলায় বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৪ সালে তিনি অবসর গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ সরকার তাকে বাংলাদেশ টেলিকম নিয়ন্ত্রক কমিটি (বিটিআরসি) এর কমিশনার ও পরে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়।
তিনি ১০ মার্চ ২০২১ তারিখে এসিসি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২৯ অক্টোবর ২০২৪-এ সরকার পরিবর্তনের পর পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পরেও এসিসি তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তকে ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বর্তমানে তদন্ত দল জাহুরুল হকের আর্থিক লেনদেন, সম্পদ অধিগ্রহণের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট টেলিকম কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিশদ বিশ্লেষণ করছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে।



