চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ‑বিজিবি ট্রেনিং সেন্টার ও কলেজের ১০৪তম রিক্রুটিং প্যারেডের সমাপনী অনুষ্ঠানের পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের সামনে মন্তব্য করেন। তিনি বললেন, দেশের বাইরে থেকে হুমকি ও তাড়া‑তাড়ি করা শি.হাসিনা ও তার পুত্র জয়কে যদি সাহস থাকে, তবে সরাসরি দেশে এসে আইনের আওতায় তাদের কথা বলতে আহ্বান জানানো উচিত।
উপদেষ্টা জানান, বিদেশে বসে যারা রাজনৈতিক মন্তব্য করে, তাদের বক্তব্যের কোনো মূল্য নেই; তারা যদি সত্যিই দেশের মঙ্গলে উদ্বিগ্ন হন, তবে দেশের সীমানার মধ্যে এসে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের মত প্রকাশ করা উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যারা পালায়া অবস্থায় থেকে কথা বলে, তাদের থেকে কোনো ভয় পাওয়া যায় না; সাহস থাকলে দেশে এসে আইনের সুরক্ষায় কথা বলুন।”
এই মন্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে পূর্বে শি.হাসিনা ও তার সরকার কর্তৃক করা সমান ধরণের আহ্বান। ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট শি.হাসিনা একই রকম বার্তা দিয়ে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে দেশে এসে মামলা মোকাবিলার আহ্বান জানান। তদুপরি, ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল লন্ডনে তারেক রহমানকে “সাহস থাকলে দেশে এসে মামলা মোকাবিলা করুন” বলে স্মরণ করিয়ে দেন।
উপদেষ্টা চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সময় যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি সবাই সহযোগিতা করে, তবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হবে।” এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃঢ়তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রশ্নে তিনি উল্লেখ করেন, “আপনি নিজে শঙ্কিত না, তবু তারা দূর থেকে হুমকি দেয়। যদি তাদের সাহস থাকে, তবে দেশে এসে আইনের আওতায় কথা বলুক।” এভাবে তিনি বিদেশে বসে থাকা বিরোধী নেতাদের সমালোচনা করেন এবং দেশের অভ্যন্তরে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার পরামর্শ দেন।
উল্লেখযোগ্য যে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা চৌধুরীর এই মন্তব্যের সময় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ তীব্র উত্তেজনায় রয়েছে। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, এবং বিরোধী দলগুলোর কিছু নেতা বিদেশে অবস্থান করে রাজনৈতিক মন্তব্য করে আসছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তি বাড়িয়ে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিচালনা নিশ্চিত করতে চায়।
উপদেষ্টা চৌধুরীর বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পর্কে জানিয়ে দেন, “বিশেষ করে নির্বাচনের সময় যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা রোধে ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, এবং তারা যথাযথভাবে প্রস্তুত।” তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, “আপনাদের সমর্থন থাকলে নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ হবে।”
বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের ক্ষেত্রে, পূর্বে তিনি লন্ডনে বসে সরকারের নীতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন। উপদেষ্টা চৌধুরী উল্লেখ করেন, “যদি তিনি সাহস পান, তবে দেশে এসে আইনের অধীনে তার মতামত প্রকাশ করতে পারেন।” এভাবে তিনি বিরোধী নেতাদের সরাসরি দেশের মধ্যে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানান।
এই মন্তব্যের পর, উপস্থিত সাংবাদিকরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। উপদেষ্টা চৌধুরী উত্তর দেন, “যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের জন্যই ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে; কোনো ব্যক্তি বা দলই আইন ভঙ্গ করে বিশৃঙ্খলা ঘটাতে পারবে না।” তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
উল্লেখযোগ্য যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই ধরনের প্রকাশনা দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। বিদেশে বসে থাকা বিরোধী নেতাদের সরাসরি দেশের মধ্যে এসে আইনের অধীনে কথা বলার আহ্বান, রাজনৈতিক সংলাপের নতুন দিক উন্মোচন করে।
শেষে উপদেষ্টা চৌধুরী বলেন, “যদি সবাই আইনশৃঙ্খলা মেনে চলে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে, তবে জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।” এভাবে তিনি নিরাপত্তা, আইনগত প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক সংলাপের সমন্বয়কে দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মূল ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন।



