22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইরান ইউএস মিত্র দেশগুলিকে সতর্ক করেছে, আক্রমণ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করা...

ইরান ইউএস মিত্র দেশগুলিকে সতর্ক করেছে, আক্রমণ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করা হবে

ইরানের একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর সামরিক আক্রমণ চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের ইউএস মিত্র দেশগুলোর ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রতিক্রিয়া জানাবে। এই সতর্কবার্তা রয়টার্সকে বুধবার জানানো হয়, এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিবাদকারীদের সমর্থনে হস্তক্ষেপের হুমকির পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরানের অভ্যন্তরে চলমান অশান্তি অব্যাহত রয়েছে; মানবাধিকার সংস্থা অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দমনের ফলে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২,৬০০-এ পৌঁছেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে সর্ববৃহৎ চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধর্মীয় শাসকগণ এই ব্যাপক প্রতিবাদ দমন করার চেষ্টা করছে।

ইসরায়েলি সূত্রে জানা যায়, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে তার সময়সীমা ও পরিধি এখনও স্পষ্ট নয়। ইরানের কর্মকর্তার কথায়, তেহরান অঞ্চলীয় দেশগুলোকে, বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তুর্কি, যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ রোধে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছে। তেহরান স্পষ্টভাবে বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আক্রমণ চালায়, তবে ওই দেশগুলোর ইউএস ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রতিক্রিয়া জানাবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ envoy স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। একই সময়ে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিপরিষদকে ইরানের সম্ভাব্য শাসনভঙ্গ বা যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ঝুঁকি সম্পর্কে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানানো হয়। ইসরায়েল গত বছর ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের স্মৃতি বহন করে, যা দুই দেশের মধ্যে শত্রুতাকে তীব্র করেছে।

ট্রাম্পের সিবিএসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি ইরান যদি প্রতিবাদকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়, তবে “অত্যন্ত শক্তিশালী পদক্ষেপ” নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি ইরানিদের আরও প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে, প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য আসবে বলে উৎসাহিত করেছেন, তবে কোন নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত; বাহরাইনে ইউএস নেভির ফিফথ ফ্লিটের সদর দপ্তর অবস্থিত, আর কাতারে আল উদেইদ বিমানবেসে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের ফরোয়ার্ড সদর দপ্তর রয়েছে। ইরান গত বছর আল উদেইদে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের তার পারমাণবিক সুবিধার ওপর বোমা হামলার প্রতিক্রিয়া ছিল।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ইরানের এই সতর্কবার্তা অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যদি যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা ইউএস মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের পুনর্গঠন এবং সম্ভাব্য সংঘাতের মাত্রা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে, ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি এবং আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে তার কূটনৈতিক কৌশল পরিবর্তন হতে পারে, যা ভবিষ্যতে পারস্পরিক সংলাপের সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে।

অবশিষ্ট সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতি এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া কীভাবে বিকশিত হবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়ে যাবে। তেহরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়, এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের সমন্বয়ই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments