২০২৬ অর্থবছরের (বছর‑২৬) প্রথম প্রান্তি, অর্থাৎ জুলাই‑সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বাস্তব জিডিপি ৪.৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই গতি পূর্ব বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত এবং অর্থনীতির সামগ্রিক গতি পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়।
শিল্প উৎপাদন এই সময়ে ৬.৯৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের সমমানের সময়ে ৩.৫৯ শতাংশের তুলনায় দ্বিগুণের কাছাকাছি বৃদ্ধি। উৎপাদন বৃদ্ধির এই ত্বরান্বিত গতি রপ্তানি‑মুখী শিল্প, গৃহস্থালী ভোক্তা পণ্য এবং অবকাঠামো প্রকল্পের চাহিদা বাড়ার ফলে সম্ভব হয়েছে।
সেবা খাত, যা মোট জিডিপির অর্ধেকেরও বেশি অংশ গঠন করে, ৩.৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। পূর্ববছরের সমকক্ষ সময়ে এই খাতের বৃদ্ধি ২.৯৬ শতাংশ ছিল। ব্যাংকিং, বীমা, লজিস্টিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবার চাহিদা বাড়ার ফলে সেবা খাতের এই উন্নতি দেশের মোট অর্থনৈতিক গতি ত্বরান্বিত করেছে।
কৃষি খাতে বৃদ্ধির গতি ধীর হয়েছে; জুলাই‑সেপ্টেম্বর সময়ে কৃষি উৎপাদন ২.৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সংখ্যা পূর্ববছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় সামান্য বেশি, তবে বৃদ্ধির হার পূর্বের উচ্চ গতি থেকে কমে যাওয়া অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সতর্কতা সৃষ্টি করেছে।
পূর্ববর্তী অর্থবছর (বছর‑২৫) এর চারটি প্রান্তিকের জিডিপি বৃদ্ধি যথাক্রমে ২.৫৮, ৪.৪৪, ৫.৩৩ এবং ২.৪৭ শতাংশ ছিল। এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে অর্থনীতি ঋতুজনিত ওঠানামা সত্ত্বেও মোটামুটি স্থিতিশীল বৃদ্ধি বজায় রেখেছে।
বছর‑২৫ এর পুরো অর্থবছরে বাস্তব জিডিপি বৃদ্ধির হার ৩.৭২ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী গড় বৃদ্ধির উপরে। এই ফলাফল সরকারী নীতি, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং ভোক্তা আস্থার সমন্বিত প্রভাবের ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হয়।
শিল্প খাতের তীব্র বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন সংস্থাগুলো নতুন অর্ডার গ্রহণে সক্ষমতা বাড়িয়েছে, বিশেষ করে রপ্তানি‑মুখী টেক্সটাইল, জুতার এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পে। এই প্রবণতা শেয়ারবাজারে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার মূল্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে।
সেবা খাতের বিস্তৃতি বাণিজ্য, পরিবহন ও আর্থিক সেবার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে যুক্ত, যা নগদ প্রবাহ বাড়িয়ে ব্যবসায়িক পরিবেশকে সমর্থন করে। তবে, সেবা খাতের বৃদ্ধির গতি শিল্পের তুলনায় ধীর হওয়ায় উৎপাদন‑সেবা সমন্বিত নীতি প্রয়োজন।
কৃষি খাতের ধীর গতি গ্রামীণ আয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে কৃষি পণ্যের মূল্য ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। সরকার যদি কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সমর্থনমূলক নীতি না চালায়, তবে গ্রামীণ বাজারে চাহিদা হ্রাস পেতে পারে এবং সামগ্রিক ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
সামগ্রিকভাবে, বাস্তব জিডিপি ৪.৫০ শতাংশের বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক সংকেত দেয়, তবে শিল্প ও সেবা খাতের দ্রুত গতি এবং কৃষি খাতের আপেক্ষিক ধীরগতি মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের অস্থিরতা, জ্বালানি মূল্যের ওঠানামা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতিগত চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যৎ গতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।
**সংক্ষিপ্ত টেকঅ্যাওয়ে**: ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিতে জিডিপি ৪.৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে শিল্প ও সেবা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করেছে; তবে কৃষি খাতের ধীর গতি সমন্বিত নীতি ও সমর্থন ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।



