ইউরোপীয় লিগে খেলা ইরানি ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমি শনিবারের গ্রীক সুপার লিগ ম্যাচে অলিম্পিয়াকোসের হয়ে আটতম গোল করে দলকে ২-০ দিয়ে আত্রোমিটোসের ওপর জয় এনে শীর্ষে পৌঁছাতে সাহায্য করেন। তবে তার গোলের পর কোনো উদযাপন না করা নজরে পড়ে, কারণ তিনি ইরানের বাড়িতে চলমান অশান্তি ও দমনমূলক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তা ব্যাখ্যা করেন।
গোলটি তারেমির ৩৩ বছর বয়সে সিজনের আটতম গোল, যা অলিম্পিয়াকোসকে লিগের শীর্ষে অবস্থান নিশ্চিত করে। ম্যাচের ফলাফল দলকে শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে নিয়ে যায়, যদিও তারেমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো আনন্দের প্রকাশ না করে।
তার মন্তব্যে তারেমি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও জনগণ ও সরকারের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা তাকে উদযাপন থেকে বিরত রেখেছে। তিনি যোগ করেন, ইরানি জনগণ সবসময় তার পাশে, তাই তিনি তাদের সঙ্গে সংহতি বজায় রাখতে গোলের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারছেন না। অলিম্পিয়াকোসের ভক্তরা তার সুখের মুহূর্ত দেখতে চাইলেও তিনি এই সিদ্ধান্ত বজায় রেখেছেন।
ইরানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি এবং ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্যের ফলে বিশাল প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে সবচেয়ে তীব্র এই আন্দোলন, যা সরকারকে চ্যালেঞ্জ করছে।
প্রতিবাদে সরকারের প্রতিক্রিয়া কঠোর, মৃত্যুদণ্ড, অতিরিক্ত দমন এবং ইন্টারনেট সংযোগের সম্পূর্ণ বন্ধের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ, হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা এক টিক দিয়ে আটকে যায়, ইমেইল ডেলিভারি ব্যর্থ হয় এবং ওয়েবসাইটগুলো অপ্রাপ্য থাকে।
বহিরাগত ইরানি নাগরিক ও খেলোয়াড়দের জন্য এই পরিস্থিতি মানসিক চাপের কারণ, কারণ তারা পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। যোগাযোগের অভাব ও তথ্যের অপ্রাপ্যতা তাদেরকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়।
ইরানে ফুটবল ঐতিহ্যবাহীভাবে জাতীয় গর্বের প্রতীক, তবে কর্তৃপক্ষ জনসমাবেশের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে সতর্ক থাকে। একই সঙ্গে, সফল ক্রীড়া অর্জনকে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার প্রবণতা রয়েছে। তারেমির এই পদক্ষেপ, যদিও ব্যক্তিগত, দেশের কঠিন সময়ে ক্রীড়া জগতের সংবেদনশীলতা প্রকাশ করে।
অলিম্পিয়াকোসের পরবর্তী ম্যাচে দল আবার শিরোপা শিরোপা দৌড়ে থাকবে, তবে তারেমি ও তার সহকর্মীরা ইরানের জনগণের সঙ্গে সংহতি বজায় রাখার জন্য এই ধরনের সংকেত দিতে থাকবেন।



