বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বুধবার সকাল পেকুয়া উপজেলা আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার মাঠে অনুষ্ঠিত বার্ষিক মেধা বৃত্তি পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিএনপি’র জুলাই জাতীয় সনদের সব প্রস্তাব অক্ষরে অক্ষরে কার্যকর করার ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাক্ষরিত সনদে সম্মত বিষয়গুলোকে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সনদের বাইরে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য থাকবে না।
এই বক্তব্যের সময় তিনি দলীয় ঐকমত্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জাতীয় স্তরে একমত হওয়া বিষয়গুলোতে সব সদস্য একসাথে কাজ করবে। তিনি রাজনৈতিক কাজের মূল লক্ষ্যকে দেশের মানুষকে সেবা প্রদান, শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা, আইন শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা হিসেবে উল্লেখ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথমবারের মতো সংবিধানে “বিসমিল্লাহ” ও আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসকে মূলনীতির অংশ হিসেবে যুক্ত করেছিলেন, যা তিনি দাবি করেন আওয়ামী লীগ শাসনকালে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তিনি দলীয় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যদি দায়িত্ব গ্রহণ করা হয় তবে সংবিধানে এই নীতি পুনরায় সংযোজন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলা ওলামাদলের আহ্বায়ক আলী হাছান চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন, আর কক্সবাজারের বিখ্যাত বাইতুর রহমান জামে মসজিদের খতিব ক্বারী আতাউল্লা গনি অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। উপস্থিত অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মধ্যে মাওলানা ইয়াছিন সোলতানী, বদরখালী মদিনাতুল মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা সোলাইমান এবং আশরাফুল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শহিদ উল্লাহ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
বিতরণ অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান করা হয়, যা উপস্থিত সকলের কাছ থেকে প্রশংসা পায়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ধর্মীয় গোষ্ঠীর সমন্বয়ও স্পষ্ট হয়, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক সংহতির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যায়।
সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, ফলে এই ঘোষণার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্টতা এখনও অনুপস্থিত। তবে তিনি উল্লেখিত প্রতিশ্রুতি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে সংবিধানের কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে।
বিএনপি’র এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দলীয় কর্মীদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতার বার্তা পুনরায় জোর দেওয়া হয়, যা আসন্ন নির্বাচনী পর্যায়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কৌশল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে, সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও আইনগত কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে, উপস্থিত সকল ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা একসঙ্গে ছবি তোলেন এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত কাজের জন্য সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। এই সমাবেশটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংলাপের একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হয়, যা দেশের বহুমুখী সমাজে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে একটি ধাপ হিসেবে গণ্য করা হয়।
সামগ্রিকভাবে, সালাহউদ্দিন আহমদের ঘোষণাটি বিএনপি’র রাজনৈতিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সংবিধানিক নীতি ও সামাজিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্য প্রকাশ পায়। ভবিষ্যতে এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনগত প্রক্রিয়া এবং জনমতের সমর্থনের ওপর।



