১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রধান উপদেষ্টা একটি সরকারি বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে দেশের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ঠিক ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে এবং তা একদিন আগে বা পরে কোনো পরিবর্তন হবে না। এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়সীমা রক্ষার উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের পর সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য যথাযথ সময় প্রদান করা হবে, যাতে ভোটারদের জন্য কোনো অনিশ্চয়তা না থাকে। সরকার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যে, নির্বাচনী কমিশন নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলবে এবং প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই ঘোষণার পর opposition দলগুলো দ্রুতই তাদের নির্বাচনী কৌশল প্রকাশ করেছে। বিএনপি, যা বর্তমানে ৭০ শতাংশ ভোটার সমর্থন দাবি করে, তাদের প্রচারাভিযানকে ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। দলটি বলেছে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং গ্রাম-গ্রামে ক্যাম্পেইন চালিয়ে তাদের সমর্থন বজায় রাখা হবে।
অন্যদিকে, জামায়াত-ইসলামিক জোটের লিটনও ১২ জনের বিরুদ্ধে থানা রিপোর্টের পর রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাচ্ছে। জোটের নেতৃত্বাধীন ১১টি দলের চূড়ান্ত আসন তালিকা ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে এবং তারা নির্বাচনের আগে জনমত গঠন করতে বিভিন্ন রেলিফ প্রোগ্রাম চালু করেছে।
যশোর-১ নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতের আর্থিক শক্তি আজিজুরের তুলনায় অগ্রগামী বলে দাবি করা হয়েছে। এই দাবি অনুযায়ী, জামায়াতের আর্থিক সংগ্রহ ক্ষমতা তাদের নির্বাচনী প্রচারকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। তবে, এই তথ্যের সঠিকতা যাচাই করা হয়নি, তবে এটি রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচনের আগে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক বাধা না রেখে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা মেনে চলা সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।
এই ঘোষণার ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, নির্দিষ্ট তারিখে নির্বাচন নির্ধারণের ফলে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের প্রোগ্রাম ও নীতি নির্ধারণে সময়সীমা মেনে চলতে হবে, যা ভোটারদের জন্য একটি পরিষ্কার নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।
অধিকন্তু, নির্বাচনী কমিশনের প্রস্তুতি সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কমিশন ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা আপডেট, ভোটকেন্দ্রের স্থাপন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা চালু করেছে। এই প্রস্তুতি ভোটারদের সহজে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করবে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা দেবে।
বিএনপি ও জামায়াতের পাশাপাশি অন্যান্য দলও তাদের প্রচারাভিযান শুরু করেছে। কিছু দল গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য শিবির, শিক্ষামূলক কর্মশালা এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ বাড়াচ্ছে। এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটারদের সমস্যাগুলি সরাসরি জানার এবং সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা এই তারিখের প্রতি অটল থাকা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে দেশের ভবিষ্যৎ নীতি ও দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে সকল রাজনৈতিক শক্তি এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোও নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নির্বাচনের বৈধতা নিশ্চিত হবে এবং দেশের আন্তর্জাতিক চিত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শেষে, প্রধান উপদেষ্টা পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, নির্বাচনের তারিখে কোনো পরিবর্তন না করা হবে এবং সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও দলকে সময়মতো প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘোষণার পর দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে, এবং ভোটাররা শীঘ্রই তাদের ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নেবে।



