আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আজ তার অধিবেশনে এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মরতুজা মজুমদার, প্রোsecution‑এর আবেদন গ্রহণ করে, জুলাই ২০২৪ বিদ্রোহ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলায় জব্দ করা প্রমাণের এক মাসের জন্য জনসাধারণের সামনে প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি ছিল প্রোsecution‑এর পক্ষ থেকে করা আবেদন, যেখানে তারা দাবি করেছিল যে প্রমাণগুলোকে স্মারক জাদুঘরে প্রদর্শন করলে জনগণকে ঘটনাগুলোর বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন করা সম্ভব হবে। বিচারপতি মজুমদার আজকের শুনানির পর এই আবেদন মঞ্জুর করে, প্রদর্শনের সময়সীমা এক মাস নির্ধারণ করেন।
প্রদর্শিত প্রমাণগুলো জুলাই বিদ্রোহের সময় সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, যার মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণহত্যা এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধ অন্তর্ভুক্ত। এইসব প্রমাণ আইসিটি‑এর বিভিন্ন মামলায় ব্যবহার করা হয়েছে এবং এখন এগুলোকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
স্মারক জাদুঘরটি ২০ জানুয়ারি উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই জাদুঘরটি গোনো ভবন নামে পরিচিত, যা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পূর্ব বাসস্থান। আগস্ট ৫, ২০২৪ তারিখে গোনো ভবনকে জুলাই বিদ্রোহ স্মারক জাদুঘরে রূপান্তর করা হয় এবং তখন থেকে এটি ঐতিহাসিক নথি ও প্রমাণ সংরক্ষণের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
প্রোsecution‑এর প্রতিনিধি গাজি মনাওয়ার হোসেন তামিম উল্লেখ করেন, জাদুঘরটি গোনো ভবনের ঐতিহাসিক কাঠামোর মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে এবং এতে বিদ্রোহের সময় সংগ্রহ করা নথি, ফটোগ্রাফ, ভিডিও রেকর্ডিং এবং অন্যান্য প্রমাণ সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী জনগণকে সরাসরি প্রমাণ দেখার সুযোগ দেবে, যা ঘটনাগুলোর সত্যতা ও গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করবে।
প্রদর্শনীর সময়সীমা এক মাস নির্ধারিত, যার মধ্যে দর্শনার্থীরা নির্ধারিত সময়ে জাদুঘরে গিয়ে প্রমাণগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। জাদুঘরের পরিচালনা কমিটি দর্শকদের জন্য গাইডেড ট্যুর এবং তথ্যবহুল ব্যাখ্যা সেশনও পরিকল্পনা করেছে, যাতে তারা প্রমাণের পটভূমি ও আইনি প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পায়।
আইসিটি‑এর এই পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে চলমান মামলাগুলোর পরবর্তী ধাপও নির্ধারিত হয়েছে। প্রমাণের প্রদর্শনের পর, সংশ্লিষ্ট মামলায় বিচারিক দলিল হিসেবে এগুলোকে ব্যবহার করা হবে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ শীঘ্রই নির্ধারিত হবে। আদালত উল্লেখ করেছে যে, প্রমাণের বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন চলমান থাকবে এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
দর্শকদের জন্য জাদুঘরের পরিবেশকে শোক ও স্মৃতির স্থান হিসেবে রক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাদুঘরে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং দর্শকদেরকে শালীন আচরণ বজায় রাখতে বলা হবে। এছাড়া, প্রমাণের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে, কিছু সামগ্রী নির্দিষ্ট বয়সের উপরে সীমাবদ্ধ রাখা হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই বিদ্রোহের সময় সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণকে এক মাসের জন্য স্মারক জাদুঘরে প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছে, যা জনসাধারণকে ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে সরাসরি পরিচয় করিয়ে দেবে এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে। ভবিষ্যতে এই প্রমাণগুলোকে ভিত্তি করে আরও তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে, যাতে বিদ্রোহের সময় সংঘটিত অপরাধের দায়ী ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।



