কিয়েভের উপশহরে অবস্থিত একটি রেলওয়ে স্টেশনে দুইটি নীল-সাদা রঙের ইউক্রেনীয় রেলওয়ে গাড়ি ডীজেল ইঞ্জিন চালু রেখে দাঁড়িয়ে আছে, তুষারপাত অব্যাহত। গাড়িগুলো চলমান না হলেও বিদ্যুৎ, পানির সরবরাহ ও তাপহীন বাসিন্দাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় প্রদান করছে। এই গাড়িগুলোকে “ইনভিন্সিবিলিটি ট্রেন” বলা হয়, যা শীতের কঠিন পরিস্থিতি ও রাশিয়ার বাড়তে থাকা আক্রমণের মাঝে জনসাধারণের মনোবল বাড়াতে চালু করা হয়েছে।
গাড়ির এক কোণে আলিনা তার নবজাতক সন্তান তারাসের সঙ্গে বসে আছে; আন্তর্জাতিক দাতাদের সরবরাহ করা খেলনা দিয়ে শিশুটি খেলছে। আলিনা জানান, তুষার ও তাপমাত্রার তীব্রতা বিবেচনা করলে এই গাড়ি তাদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক স্থান, যেখানে তারা অন্য পরিবারগুলোর সঙ্গে মেলামেশা করতে পারে।
এই সপ্তাহে কিয়েভে তাপমাত্রা -১৯°C পর্যন্ত নেমে এসেছে, বাতাসের তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহের কারণে শীতলতা আরও তীব্র হয়েছে। আলিনা ১৭ তলা একটি নতুন ভবনে থাকলেও লিফট, বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ নেই; ফলে তিনি ও তার পরিবার গরম ও পানির জন্য এই ট্রেনে আশ্রয় নিয়েছেন।
আলিনার স্বামী পুরো দিন একটি কারখানায় কাজ করেন, আর আলিনা উল্লেখ করেন যে তার ৫৪ বছর বয়সী পিতা দুই বছর আগে বাকমুটের গ্রীষ্মকালীন আক্রমণে নিহত হয়েছিলেন। এই স্মৃতি তাকে কাঁদতে বাধ্য করে, তবে তিনি বলেন যে ট্রেনের উপস্থিতি শীতের কষ্ট ও রাশিয়ার রাতের বোমাবর্ষণ থেকে সাময়িক মুক্তি দেয়।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার শীতকালে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শক্তি সঞ্চয় সুবিধা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ বাড়ানোর অভিযোগ করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে শীতের কঠোরতা শত্রুর জন্যও কষ্টদায়ক, তাই এই অবকাঠামোকে ধ্বংস করে নাগরিকদের জীবনযাত্রা কঠিন করা তাদের কৌশল।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো এই সপ্তাহে শহরের বাসিন্দাদেরকে, যদি সম্ভব হয়, অন্যত্র স্থানান্তরিত হওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে শহরের সীমিত সম্পদে চাপ কমে। রাশিয়া এই মন্তব্যকে আত্মসমর্পণ ও হারের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যবহার করেছে, যা আন্তর্জাতিক আলোচনায় নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে শীতকালে শক্তি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা কেবল সামরিক কৌশল নয়, বরং মানবিক সংকটের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তারা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে তাপ ও বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা, যেমন ইনভিন্সিবিলিটি ট্রেন, নাগরিকদের বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইউক্রেনের মানবিক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠী এই ট্রেনের জন্য খাবার, গরম পানীয় ও শিশুর খেলনা সরবরাহে সহায়তা করছে। গাড়িগুলোর ডীজেল ইঞ্জিন চালু থাকায় তাপ উৎপন্ন হয়, যা শীতের তীব্রতা থেকে সাময়িক রক্ষা প্রদান করে।
বর্তমানে কিয়েভে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও পানির ঘাটতি বহু এলাকায় দেখা যাচ্ছে; বিশেষ করে উচ্চতর ভবনের বাসিন্দারা লিফট ও তাপের অভাবে সমস্যায় পড়ছেন। ইনভিন্সিবিলিটি ট্রেনের মতো অস্থায়ী সমাধানগুলো শহরের জরুরি সেবা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করছে।
রাশিয়ার আক্রমণ ও শীতের তীব্রতা মিলিয়ে



