ভারতের শ্রম মন্ত্রণালয় সব দ্রুত‑বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মকে ১০‑মিনিট ডেলিভারি প্রতিশ্রুতি ত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছে, কারণ কর্মীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই নির্দেশনা দ্রুত‑বিক্রয় সেবার জনপ্রিয়তা এবং গিগ কর্মীদের কাজের শর্তের মধ্যে তীব্র বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশিত হয়েছে।
গত মাসে দেশের বিভিন্ন শহরে ডেলিভারি রাইডারদের ব্যাপক ধর্মঘটের পর সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। রাইডাররা ন্যায্য মজুরি, মর্যাদা এবং নিরাপদ কাজের পরিবেশের দাবি জানিয়ে রাস্তায় নেমে আসে, যা কিছু শহরে কয়েক দিন চলেছিল।
ধর্মঘটের মূল দাবি ছিল অল্প সময়ের মধ্যে অর্ডার ডেলিভারির জন্য কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। রাইডারদের মতে, ১০‑মিনিটের চুক্তি তাদেরকে ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন করতে এবং অপ্রয়োজনীয় গতি বাড়াতে বাধ্য করে।
যদিও গ্রাহকদের জন্য সেবা সাময়িকভাবে সীমিত হয়নি, তবে এই আন্দোলন ডিজিটাল অর্থনীতির মানবিক দিক নিয়ে তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত করে। বিশেষ করে ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল ই-কমার্স বাজারে গিগ কর্মীদের কল্যাণ কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, এ প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
ধর্মঘটের পর সরকারি কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বন্ধ দরজা বৈঠক করেন। বৈঠকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা দ্রুত‑বিক্রয় প্ল্যাটফর্মগুলোকে সময়সীমা নির্ধারণের প্রচার বন্ধ করতে এবং কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছিলেন।
বৈঠকে জোমাটো, ব্লিঙ্কিট, জেপ্টো এবং সুইগি সহ প্রধান দ্রুত‑বাণিজ্য ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এই কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের নগর এলাকায় কয়েক মিনিটের মধ্যে মুদি, ইলেকট্রনিক্স এবং গৃহস্থালী সামগ্রী সরবরাহের সেবা প্রদান করে।
মডেলটি গ্রাহকের দৃষ্টিতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও গিগ কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ আর নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, অল্প সময়ের ডেলিভারি চুক্তি কর্মীদেরকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে এবং দুর্ঘটনার শিকার হতে বাধ্য করে।
ব্লিঙ্কিট ইতিমধ্যে তার ব্র্যান্ডিং এবং মার্কেটিং থেকে “১০‑মিনিট” শব্দটি সরিয়ে ফেলেছে। অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলোও একই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, যদিও সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনও নিশ্চিত নয়।
তবে মঙ্গলবার কিছু শহরে অ্যাপের মধ্যে এখনও ১০‑মিনিটের নিচে ডেলিভারি সময়ের অনুমান দেখা যায়। এর কারণ হল অনেক সেবা ‘ডার্ক স্টোর’ নামে পরিচিত ছোট গুদাম ব্যবহার করে, যা বাসিন্দা এলাকায় নিকটবর্তীভাবে অবস্থিত।
ডার্ক স্টোরের নিকটতা অর্ডার গ্রহণের পর দ্রুত প্যাকেজিং এবং ডেলিভারির সুযোগ দেয়, ফলে সময়সীমা স্বল্প থাকে। যদিও এই পদ্ধতি গ্রাহকের সন্তুষ্টি বাড়ায়, তবু কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
কোভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে ভারতের শহরগুলোতে দ্রুত‑বাণিজ্য সেবা দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। ছোট গুদাম এবং অ্যালগরিদম-নিয়ন্ত্রিত লজিস্টিক্সের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো বাজারের চাহিদা পূরণে দ্রুত গতিতে কাজ করছে। এই প্রবণতা ডিজিটাল অর্থনীতির বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।
ভবিষ্যতে শ্রম মন্ত্রণালয় দ্রুত‑বিক্রয় সেবার উপর আরও কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগ করতে পারে, যা কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক মডেলকে পুনর্গঠন করতে বাধ্য করবে। কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকের প্রত্যাশা পূরণের মধ্যে সমতা রক্ষা করা শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী টেকসইতা নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে।



