ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু ম্যাচ আছে যেখানে দলগুলো দুই বা ততোধিক খেলোয়াড় হারিয়েও গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছে। লাজিও, ডাম্বারটন এবং গ্রেমিও এই রকম পরিস্থিতিতে সফলতা অর্জন করেছে। এই ঘটনাগুলো কিভাবে ঘটেছিল এবং কোন শর্তে দলগুলো এগিয়ে গেল তা নিচে বিশদে তুলে ধরা হলো।
ইতালির সিরি এ-তে লাজিও এবং পার্মা ২০২৩ সালের শীতকালীন মৌসুমে মুখোমুখি হয়। ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে লাজিওর দুই খেলোয়াড় লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছেড়ে যায়। তবে ৮২তম মিনিটে লাজিও শেষ মুহূর্তে এক গোল করে পার্মাকে পরাজিত করে, ফলে দুইজনের অনুপস্থিতিতেও দলটি জয় নিশ্চিত করে।
লাজিওর এই জয়টি বিশেষ কারণ দুই রেড কার্ডের পরেও দলটি আক্রমণাত্মকভাবে খেলতে সক্ষম হয়। গোলটি শেষের দিকে এসে দলের আত্মবিশ্বাসকে নতুন করে জ্বালিয়ে দেয় এবং ম্যাচের ফলাফলকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে।
স্কটল্যান্ডের লিগ কাপের ১৯৯১ সালের আগস্টে ডাম্বারটন ও এয়ারড্রিয়নিয়ান্সের মধ্যে একটি রোমাঞ্চকর টানা হয়। ডাম্বারটনের কলিন ম্যাকনেয়ার, স্টিফেন গো এবং জিমি গিলমোর একে একে লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছেড়ে যায়, ফলে দলটি মাত্র আটজন খেলোয়াড়ে রয়ে যায়।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুর দিকে ডাম্বারটন এক গোল করে অগ্রগতি লাভ করে। তবে এয়ারড্রিয়নিয়ান্সের আক্রমণ শেষের দিকে দু’টি গোল করে স্কোরকে ২-১ করে তুলতে সক্ষম হয়। শেষ মুহূর্তে ওয়েন কোয়েল এক মিটার দূর থেকে শেষ কিক দিয়ে গোল করে দলকে রক্ষা করে।
ডাম্বারটনের আটজন খেলোয়াড়ের সাহসিকতা সত্ত্বেও শেষ স্কোরে তারা পরাজিত হয়, তবে এই ম্যাচটি ক্লাবের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে রয়ে যায়।
ব্রাজিলের ২০০৫ সালের প্রোমোশন প্লে-অফে গ্রেমিও ও নাউটিকোর মধ্যে তীব্র লড়াই হয়। ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে গ্রেমিও সাতজন খেলোয়াড়ে রয়ে যায়, আর নাউটিকোরও এক খেলোয়াড় লাল কার্ড পায়, ফলে দুই দলই অনুপাতে কম খেলোয়াড়ে খেলা চালিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬১তম মিনিটে গ্রেমিওর তরুণ অ্যান্ডারসন এক গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে ১-০ এগিয়ে নিয়ে যায়। এই গোলটি ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে এবং গ্রেমিওকে প্রোমোশন নিশ্চিত করে।
এই ম্যাচটি ‘বাটালহা দোস আফ্লিটোস’ (দুঃখের যুদ্ধ) নামে পরিচিত। দুইটি পেনাল্টি মিস, পুলিশ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষ এবং তীব্র উত্তেজনা এই ম্যাচকে স্মরণীয় করে তুলেছে।
দক্ষিণ আমেরিকায় আরেকটি উদাহরণ রয়েছে যেখানে ট্যালারেস ও ইন্ডিপেনডিয়েন্টের মধ্যে ১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে চূড়ান্তের দ্বিতীয় লেগে দলগুলো কম খেলোয়াড়ে খেলতে বাধ্য হয়। যদিও বিস্তারিত স্কোর উল্লেখ নেই, তবে ঐ ম্যাচটিও অনুরূপ চ্যালেঞ্জের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
সারসংক্ষেপে, আটজন বা তার কম খেলোয়াড়ে গোল করা দলগুলো বিরল হলেও ইতিহাসে তাদের নাম অমলিন। লাজিও, ডাম্বারটন এবং গ্রেমিওর মতো দলগুলো দেখিয়েছে যে সংকটের মুহূর্তে সঠিক কৌশল ও দৃঢ়সংকল্প ফলাফলকে বদলে দিতে পারে। ভবিষ্যতে আরও এমন নাটকীয় মুহূর্তের প্রত্যাশা করা যায়।



