বুধবার দুপুরের কাছাকাছি, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে অবস্থিত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে একটি পণ্যবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ৭০ বছর বয়সী এক বিচারপ্রার্থী প্রাণ হারান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তার মতে, ট্রাকটি দ্রুতগতিতে চলছিল এবং হঠাৎ করে পথচারীকে আঘাত করে থেমে যায়।
মৃত্যুর শিকার ব্যক্তি মাদুলী ইসলাম ভূঁইয়া, রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার রাণীপুরা এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই দিন চেক সংক্রান্ত একটি মামলার জন্য রূপগঞ্জ থেকে আদালতে গিয়েছিলেন। তার পরিবার জানায়, মাদুলী ভাই সবসময়ই ন্যায়বিচার রক্ষায় সক্রিয় ছিলেন এবং এই মামলায় উপস্থিত হওয়া তার দায়িত্বের অংশ ছিল।
ঘটনার সময়, ট্রাকটি আদালতের সামনে চলমান হেঁটে যাওয়া পথচারীদের দিকে অপ্রত্যাশিতভাবে ঝুঁকে পড়ে। সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক নারী, সাদিয়া, জানান, “হাঁটা পথে হঠাৎ করে ট্রাকটি আমাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং মাদুলী ভাইকে আঘাত করে।” তার বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রাকের চালক এবং সহকারী দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
পুলিশের এসআই রেহানুল ইসলাম জানান, ট্রাকের চালক ও সহকারীকে তৎক্ষণাৎ অনুসরণ করা হয়নি, তবে ঘটনাস্থলে তৎকালীন উপস্থিত গৃহস্থালির লোকজনের সহায়তায় মৃতদেহটি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মৃতদেহের ওপর ফরেনসিক পরীক্ষা চালু করা হয়েছে।
মাদুলী ভাইয়ের পরিবার এবং প্রতিবেশীরা শোকাহত হয়ে ঘটনাস্থলে সমবেত হয়। রোকসানা ইব্রাহিম, মাদুলীর প্রতিবেশী, উল্লেখ করেন, “তিনি সকালবেলা চেক মামলার জন্য আদালতে গিয়েছিলেন, কিন্তু ফিরে আসার পথে এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে।” পরিবার এখন মৃতদেহের শেষিকরণ এবং দাফন প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পুলিশের মতে, ট্রাকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং চালকের পরিচয় জানার জন্য স্থানীয় রাস্তায় ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া, ট্রাকের মালিকের বিরুদ্ধে গাড়ি চালানোর সময় গতি সীমা অতিক্রমের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিক তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলায় একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের সদস্যরা ট্রাকের রেজিস্ট্রেশন তথ্য, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড এবং চালকের পূর্বের অপরাধমূলক রেকর্ড যাচাই করবে।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানিয়েছে, ট্রাকের চালক ও সহকারীকে গ্রেফতার করা হলে, তারা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, অপরাধমূলক দায়িত্ব এবং দায়িত্বহীনতার জন্য কঠোর শাস্তি পাবে। এছাড়া, মৃতদেহের ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অপরাধমূলক দায়িত্ব নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
মাদুলী ভাইয়ের মৃত্যুর পর, রূপগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসন এবং আদালত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। আদালত প্রধানের মতে, বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রাফিক নিরাপত্তা এবং পণ্যবাহী গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দাবি করছেন, আদালত ও রাস্তায় গাড়ি চলাচলের জন্য বিশেষ সিগন্যাল এবং রোড সাইনেজ স্থাপন করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।
এই ঘটনার পর, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ট্রাফিক আইন প্রয়োগের তীব্রতা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত পেট্রোলিং ইউনিট পাঠানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, রাস্তায় গতি সীমা অতিক্রমকারী গাড়ির ওপর কঠোর নজরদারি চালু করা হবে।
মাদুলী ভাইয়ের পরিবার এবং প্রতিবেশীরা এখনো শোকের মধ্যে আছেন, তবে তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনবে।
এই দুর্ঘটনা স্থানীয় সমাজে ট্রাফিক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে রাস্তায় গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পারাপার পথ এবং ট্রাফিক সিগন্যালের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রাকের চালক ও সহকারীকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি, তবে পুলিশ তাদের সন্ধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে পরবর্তী আপডেট প্রদান করা হবে।



