বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আজ বিকাল আগারগাঁও সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানায় যে, প্রাথমিক পাবলিক অফার (আইপিও)‑এ শেয়ার বরাদ্দের পদ্ধতি পুনরায় লটারি ভিত্তিক করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শেয়ার বাজারে নতুন তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া পূর্বের অনুপাতিক বরাদ্দের বদলে র্যান্ডম সিলেকশনের দিকে ফিরে যাবে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক এম হাছান মাহমুদ, পরিচালক মো. আবুল কালাম এবং অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবির সহ অন্যান্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সংশোধিত পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ (পিএওইএস) বিধি সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। নতুন বিধি অনুযায়ী, ৩০ কোটি টাকার নিচে পরিশোধিত মূলধনযুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান আইপিওতে আবেদন করতে পারবে না।
আইপিওতে তালিকাভুক্ত হতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোকে তাদের মোট মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার মুক্ত বাজারে মুক্ত করতে হবে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য লিকুইডিটি নিশ্চিত করবে। তদুপরি, আইপিও‑পরবর্তী পর্যায়ে কোম্পানির মোট মূলধন কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকার হতে হবে। এই শর্ত পূরণ না করলে তালিকাভুক্তি অনুমোদিত হবে না।
যদি কোনো প্রতিষ্ঠান ৩০ কোটি টাকার মূলধন নিয়ে তালিকাভুক্তি চায়, তবে তাকে ন্যূনতম ২০ কোটি টাকার শেয়ার মুক্ত বাজারে ছেড়ে দিতে হবে। তবে, বহুজাতিক সংস্থা বা বৃহৎ স্কেলের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই শর্তে কিছুটা নমনীয়তা দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
পূর্বে লটারি ব্যবস্থা বাতিল করে, শেয়ার বরাদ্দের জন্য আবেদনকারী বিনিয়োগকারীর জমা অর্থের অনুপাতিক হারে শেয়ার প্রদান করা হতো। সেই সময়ে আইপিওতে অংশগ্রহণের জন্য বিনিয়োগকারীর সেকেন্ডারি বাজারে ন্যূনতম ৫০,০০০ টাকার বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক ছিল। নতুন বিধি এই শর্তটি বজায় রাখবে না, তবে লটারি পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাড়বে বলে অনুমান করা হয়।
বিএসইসির এই পদক্ষেপের পেছনে মূল লক্ষ্য হল শেয়ার বাজারে অধিক স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত করা, যাতে বৃহৎ ও ক্ষুদ্র উভয় বিনিয়োগকারীই সমান সুযোগ পায়। লটারি পদ্ধতি ব্যবহার করলে উচ্চ পরিমাণের আবেদনকারী একাধিক শেয়ার পেতে না পারলেও, র্যান্ডম সিলেকশনের মাধ্যমে প্রত্যেকেরই অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, লটারি ব্যবস্থা পুনরায় চালু হলে প্রাথমিক পাবলিক অফারের চাহিদা ও সাবস্ক্রিপশন রেটিংয়ে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে, ৩০ কোটি টাকার নিচের মূলধনযুক্ত কোম্পানিগুলোকে এখন তালিকাভুক্তি থেকে বাদ দিতে হবে, ফলে বাজারে বড় কোম্পানির শেয়ার প্রাধান্য পাবে। তবে, শেয়ার মুক্তির শর্ত পূরণ করা হলে, বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি কমে এবং শেয়ার মূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
বিএসইসির এই নীতিগত পরিবর্তন শেয়ার বাজারের কাঠামোকে পুনর্গঠন করবে এবং ভবিষ্যতে আইপিও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বাড়াবে। লটারি পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন এবং মূলধন সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে, বাজারে নতুন বিনিয়োগের প্রবাহকে সুনিয়ন্ত্রিত করা এবং অতিরিক্ত ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব হবে।
শেয়ার বাজারে এই ধরণের কাঠামোগত পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াবে এবং দেশের পুঁজি বাজারকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলবে।



