27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধা, ৭০‑বছরীর রোগী মারা গেলেন

শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধা, ৭০‑বছরীর রোগী মারা গেলেন

শরীয়তপুরে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) একটি রোগীকে ঢাকা‑ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতাল (এনআইএনএস)‑এ পাঠানোর পথে দুইবার অ্যাম্বুলেন্সের গতি বাধা দেওয়া হয়, ফলে ৭০ বছর বয়সী জমশেদ আলী ঢালী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান।

সকাল প্রায় ৯টায় রোগীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ১১:৩০টায় চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা‑এর এনআইএনএস‑এ রেফার করেন। রেফারেন্সের পর হাসপাতাল চত্বর থেকে ৬,০০০ টাকার একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়, তবে রোগীকে গাড়িতে চড়ানোর পর অতিরিক্ত ভাড়া দাবির অভিযোগে স্বজনরা তা বাতিল করে পরিচিত আরেকটি গাড়ি ৫,০০০ টাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

দুপুরের দিকে, ঢাকা‑শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া এলাকায় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা রোগীবাহী গাড়িটিকে আটকে দেয়। তারা দাবি করে, স্থানীয় গাড়ি বাদ দিয়ে বাইরে থেকে রোগী নেওয়া হচ্ছে। প্রায় চল্লিশ মিনিটের হস্তক্ষেপের পর গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে একই গাড়ি নড়িয়া উপজেলার জামতলা এলাকায় আবার আটকে পড়ে, যেখানে প্রায় পঞ্চাশ মিনিটের সংঘর্ষের পর গাড়িটি চালু করা হয়।

গাড়ি চালকের মতে, বাধা দেওয়া দল সিগন্যাল দিয়ে গাড়ি থামিয়ে চাবি নিয়ে নেয় এবং ঢাকা যাওয়ার অনুমতি না দিয়ে গাড়ি থেকে বের হতে বাধা দেয়। এই সময়ে গাড়ির ভিতরে হাতা-হাতা সংঘর্ষও ঘটে। গাড়ি চালক ও বাধা দেওয়া দলের মধ্যে শারীরিক ঝগড়া হয়, তবে শেষ পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।

বিকাল প্রায় ৪টায় রোগী এনআইএনএস‑এর কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর স্বজনরা রাত ৮টায় পালং মডেল থানায় গিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানান। পুলিশ স্বজনদের লিখিত অভিযোগ জমা দিতে নির্দেশ দেয়। স্বজনরা দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স চালক পারভেজ ও সজিব, এবং গাড়ির মালিক সুমন ও মানিকসহ মোট আট থেকে দশজনকে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি চালক ও সংশ্লিষ্টদের বিবৃতি গ্রহণ করেছে এবং মামলাটি রেজিস্টার করে তদন্ত চালু করেছে। বর্তমানে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ বাধা ও হিংসাত্মক অপরাধের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের ফলাফল magistrate‑এর সামনে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে মামলার শাস্তি নির্ধারণের জন্য প্রমাণ-প্রসঙ্গ বিবেচনা করা হবে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিভাগ এই ধরনের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে। তারা জরুরি সেবা গাড়ির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। রোগীর পরিবার এবং স্থানীয় জনগণ এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments