দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি জে মিউং এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকারিচি মঙ্গলবার নারা শহরে একসাথে ড্রাম বাজিয়ে কেপপ গানের সুরে পারস্পরিক বন্ধুত্বের বার্তা পাঠালেন। দুজনেই সমান নীল জ্যাকেট পরিধান করে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই অপ্রচলিত পারফরম্যান্সটি তৎক্ষণাৎ নজরে আসে।
ড্রাম সেশনে বিটিএসের “ডাইনামাইট” এবং কেপপ ডেমন হান্টার্সের “গোল্ডেন” সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গানের সুর ব্যবহার করা হয়। উভয় নেতা একই রিদমে ড্রামস্টিক ধাক্কা দিয়ে, দর্শকদের জন্য এক রঙিন দৃশ্য তৈরি করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাকারিচি পূর্বে হেভি মেটাল ব্যান্ডে ড্রামার হিসেবে কাজ করেছেন, তাই এই পারফরম্যান্সে তার অতীতের ছোঁয়া স্পষ্ট। তার সঙ্গীত পটভূমি এই ডুয়েটকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এই ড্রাম সেশনটি লি জে মিউংয়ের জাপান সফরের সমাপনী অনুষ্ঠান হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। সফরটি জাপানের নারা শহরে সীমাবদ্ধ না থেকে, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পিত ছিল।
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বিরোধের পরেও নিরাপত্তা জোটের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখেছে। এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় উভয় দেশের সম্পর্ককে মসৃণ করার একটি কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়।
ড্রাম বাজানোর সময় লি জে মিউং নিজেই পারফরম্যান্সকে কিছুটা অদক্ষ বলে উল্লেখ করেন, তবে তা তার আন্তরিকতা ও সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশের একটি উপায় হিসেবে দেখা হয়।
পারফরম্যান্সের ভিডিও দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং লক্ষ লক্ষ দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার ফলে দুই দেশের নাগরিকের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার সঞ্চার ঘটে।
নারা সফরের অংশ হিসেবে লি জে মিউং জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে একটি ড্রাম সেট উপহার দেন এবং পারফরম্যান্সের পর দুজনেই স্বাক্ষরিত ড্রামস্টিক বিনিময় করেন। এই উপহার বিনিময়টি ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক প্রথার একটি আধুনিক রূপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তাকারিচি পরে এক্স (টুইটার) এ লিখে জানান যে, গত এপেক সম্মেলনে লি জে মিউং ড্রাম বাজানোর স্বপ্ন প্রকাশ করেছিলেন, তাই এই চমক প্রস্তুত করা হয়েছিল। এই পোস্টটি উভয় দেশের অনলাইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রশংসা পায়।
একজন এক্স ব্যবহারকারী কোরিয়ান ভাষায় মন্তব্য করেন যে, সঙ্গীত শব্দের চেয়ে গভীরভাবে হৃদয়কে স্পর্শ করে এবং এ ধরনের বিনিময় দু’দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। মন্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক শেয়ার হয়।
দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এখনও ঐতিহাসিক শোষণ, উপনিবেশিক শাসন এবং ভূখণ্ডগত বিরোধের মতো সংবেদনশীল বিষয় রয়ে গেছে। তবে সাংস্কৃতিক সংযোগের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলোর সমাধানে নতুন দৃষ্টিকোণ তৈরি হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা জোটের অংশ, এবং চীনের আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। এই ডুয়েটটি তাদের যৌথ কৌশলগত লক্ষ্যকে দৃঢ় করার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ।
তাকারিচি একটি বিবৃতি জারি করে বলেন যে, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশের উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই বক্তব্যটি বর্তমান কৌশলগত পরিবেশের প্রতি তাদের সচেতনতা প্রকাশ করে।
দুই দেশই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা চীনের বিরল ধাতু রপ্তানি সীমাবদ্ধতার পরিপ্রেক্ষিতে সময়োপযোগী। এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপটি সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্যকরণে সহায়তা করবে।
চীন সাম্প্রতিক সময়ে বিরল ধাতুর রপ্তানি কঠোর করে তুলেছে, ফলে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পক্ষেত্র প্রভাবিত হতে পারে। তাই উভয় দেশই বিকল্প সরবরাহ উৎস সন্ধানে ত্বরান্বিত হয়েছে।
ভবিষ্যতে লি জে মিউং এবং তাকারিচি আরও উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা গভীর করার পরিকল্পনা করছেন। এই পরিকল্পনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার লক্ষ্যে।
ড্রাম ডুয়েটের মাধ্যমে উন্মোচিত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশটি কেবল সাংস্কৃতিক বিনিময় নয়, বরং কূটনৈতিক সংলাপের নতুন মঞ্চ তৈরি করেছে। উভয় পক্ষই এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগকে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।



