19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে ডেনমার্কের সঙ্গে ঐক্য বজায় রাখতে ইচ্ছা প্রকাশ

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে ডেনমার্কের সঙ্গে ঐক্য বজায় রাখতে ইচ্ছা প্রকাশ

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস‑ফ্রেডেরিক নিলসেন ১৪ জানুয়ারি কপেনহেগেনে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অধিগ্রহণের প্রস্তাবের তুলনায় তারা ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকা বেশি পছন্দ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান ভূ‑রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হয়, তবে ডেনমার্কই তাদের পছন্দ।

নিলসেনের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে “সম্পূর্ণ শিষ্টাচারবহির্ভূত” বলে বর্ণনা করা হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে “খুবই গুরুতর” বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিলসেনের মন্তব্যের প্রতি তীব্র ও রুক্ষ ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “এটি তাদের সমস্যা, আমি তাদের সঙ্গে একমত নই। আমি জানি না সে কে, তবে এটি তার জন্য বড় সমস্যা তৈরি করবে।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্তি যেকোনো রূপে গ্রহণ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর, ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বৈঠকের লক্ষ্য হলো উত্তেজনা হ্রাস করে দুই দেশের মধ্যে সংলাপকে পুনরায় চালু করা। এই বৈঠকে ডেনমার্কের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ এবং দ্বীপের স্বায়ত্তশাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতা বিষয়টি দীর্ঘদিনের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দার মধ্যে জনমত জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ধারণার বিরোধিতা করে। গত বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে, ত্রৈভাগের বেশি ভোটার ধীরে ধীরে স্বাধীনতার দিকে অগ্রসর হওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। নিলসেনের মতে, বর্তমান সময়ে স্বাধীনতার আলোচনা ত্যাগ করে ডেনমার্কের সঙ্গে ঐক্য বজায় রাখা মৌলিক নীতিগুলো রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক রূপরেখাকে গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থের বিরুদ্ধে একটি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই পরিস্থিতি গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি এবং ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্যের ফলে ডেনমার্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা শক্তিশালী হয়েছে, যা স্বাধীনতা আন্দোলনের গতি ধীর করতে পারে। তবে, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ফলাফল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।

সারসংক্ষেপে, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অধিগ্রহণের হুমকির মুখে ডেনমার্কের সঙ্গে একতাবদ্ধ থাকতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আর ট্রাম্পের রুক্ষ মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের কূটনৈতিক সংলাপ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই দ্বন্দ্ব সমাধান হবে, তা গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments