দুবাইয়ের জনপ্রিয় চকলেট মিষ্টি, পিস্তাচিও ক্রিম, তাহিনি ও কনাফে শেড দিয়ে তৈরি, দক্ষিণ কোরিয়ায় দ্রুতই ভোক্তাদের মন জয় করেছে। এই মিষ্টি, যা মূলত দুবাইতে স্টিকি ও সমৃদ্ধ স্বাদের জন্য পরিচিত, এখন কোরিয়ার বিভিন্ন খাবার দোকানে বিক্রি হচ্ছে। প্রথমবারের মতো এই ধরনের মিষ্টি কোরিয়ার রাস্তায় দেখা যাচ্ছে, যেখানে এটি দ্রুত বিক্রি হয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র চাহিদা তৈরি করেছে।
দুবাই চকলেটের মূল রেসিপিতে পিস্তাচিও ক্রিম, তাহিনি এবং কনাফে পেস্ট্রি শেড মিশ্রিত করে একটি চিবনীয় কনফেকশন তৈরি করা হয়। এই মিষ্টি তার অনন্য টেক্সচার ও সমৃদ্ধ স্বাদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় বিক্রিত সংস্করণটি মূল মিষ্টির চেয়ে বেশি রাইস কেকের মতো গঠন ধারণ করে, যেখানে চকলেট মার্শম্যালোর মধ্যে পিস্তাচিও ক্রিম ও কনাফে শেড ভরা থাকে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে এই চিবনীয় কুকি প্রকাশের পর কয়েক মিনিটের মধ্যে শত শত ইউনিট বিক্রি হয়ে যায়, এবং মূল উপাদানের চাহিদা বাড়ার ফলে দামেও উত্থান দেখা যায়। স্থানীয় মিডিয়া জানায়, কুকির বিক্রয় গতি এতটাই দ্রুত যে কিছু দোকান একবারে একাধিক গ্রাহকের জন্য স্টক সীমিত করে দিয়েছে। এই প্রবল চাহিদা পিস্তাচিও ও অন্যান্য মূল উপাদানের দামকে তীব্রভাবে বাড়িয়ে তুলেছে।
এই ট্রেন্ডের সূচনা ঘটেছিল গত সেপ্টেম্বর, যখন কোরিয়ান গার্ল ব্যান্ড আইভের সদস্য জ্যাং ওন-ইয়ং ইনস্টাগ্রামে এই চিবনীয় কুকির ছবি শেয়ার করেন। তার পোস্টের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমের আলোড়ন বাড়তে থাকে এবং কুকি দ্রুতই দেশের বিভিন্ন কোণায় ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে এই মিষ্টির দাম ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ ওন (প্রায় ৩ ডলার থেকে ৭ ডলার) পর্যন্ত নির্ধারিত, এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে দাম আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা সত্ত্বেও, গ্রাহকরা এই মিষ্টি কিনতে দীর্ঘ সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে ইচ্ছুক।
ডেজার্ট শপ ও বেকারির পাশাপাশি সুশি বার, ঠাণ্ডা নুডল শপ এবং অন্যান্য রেস্টুরেন্টগুলোও এখন এই মিষ্টি মেনুতে যুক্ত করেছে। ফলে, কোরিয়ার খাবার সংস্কৃতিতে এই দুবাই-অনুপ্রাণিত মিষ্টি একটি নতুন রুচি হিসেবে 자리 করে গেছে।
স্থানীয় কনভিনিয়েন্স স্টোর চেইন CU অক্টোবর মাসে “দুবাই চিবনীয় রাইস কেক” চালু করে এবং কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় ১.৮ মিলিয়নটি বিক্রি করেছে। এই বিক্রয় সংখ্যা দেখায় যে মিষ্টিটি সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
একই সময়ে, উৎপাদনকারী কোম্পানি জানায় যে তাদের কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমান চাহিদা পূরণে অপর্যাপ্ত। ফলে, সরবরাহের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে অতিরিক্ত উৎপাদন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
অনলাইন মানচিত্রে এখন এমন একটি সেবা রয়েছে, যেখানে বিক্রয়কারী দোকান ও তাদের স্টক স্তর রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করা যায়। এই সেবা গ্রাহকদেরকে নিকটস্থ দোকান দ্রুত খুঁজে পেতে সহায়তা করে এবং কিছু দোকানকে এক গ্রাহকের ক্রয় সীমা নির্ধারণে বাধ্য করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় গিগ কর্মীরা এখন আলোচনা করছেন, হার্ডওয়্যার স্টোর ও ক্লিনিং কোম্পানিগুলোও এই মিষ্টি থেকে লাভবান হতে পারে কিনা। এই ধরনের আলোচনায় দেখা যায় যে, মিষ্টির জনপ্রিয়তা কেবল খাবার শিল্পেই নয়, অন্যান্য ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে।
পিস্তাচিওয়ের দামও এই প্রবণতার ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে; একটি বড় সুপারমার্কেট চেইন এই বছর পিস্তাচিওয়ের দাম ২০% বৃদ্ধি করেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি মিষ্টির উৎপাদন খরচকে প্রভাবিত করে এবং শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের মূল্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজারে মূল পণ্যটির নকল সংস্করণও দেখা দিচ্ছে, যা মূল স্বাদ ও গুণমানের তুলনায় কম। নকল পণ্যের উপস্থিতি মূল মিষ্টির চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে এবং ভোক্তাদের সতর্কতা বাড়িয়েছে।



