পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি করোল নাওরস্কি রেডিও ৪-এর টুডে প্রোগ্রামে জানান, ইউক্রেনের যুদ্ধের সমাধান ও ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প একমাত্র বিশ্বনেতা যিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হুমকি মোকাবেলা করতে সক্ষম। নাওরস্কি যুক্তি দেন, পুতিনের আক্রমণাত্মক নীতি শুধু পোল্যান্ড নয়, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে; তাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে গৃহীত পদক্ষেপই সমস্যার সমাধান হতে পারে।
নাওরস্কি ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার সঙ্গে এবং অন্যান্য ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর এই মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুতিনের রাশিয়া পোল্যান্ডের সীমান্তে সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করেছে এবং তাই ট্রাম্পের নীতি ও কৌশলই একমাত্র উপায় যা এই চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করতে পারে।
গত সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ড্রোন আক্রমণকে নাওরস্কি “অসাধারণ পরিস্থিতি” বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বেলারুশ ও ইউক্রেন থেকে ২০টিরও বেশি অনিয়ন্ত্রিত বিমান পোল্যান্ডের আকাশে প্রবেশ করে প্রথমবারের মতো ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর ব্যাপক ড্রোন আক্রমণ ঘটায়। এই ঘটনাকে রাশিয়া পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ন্যাটোর ঐক্য পরীক্ষা করার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
ড্রোন আক্রমণের পর নাওরস্কি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২১ সাল থেকে পোল্যান্ড রাশিয়ার সঙ্গে হাইব্রিড যুদ্ধের অবস্থায় রয়েছে; এতে ড্রোন, সাইবার আক্রমণ এবং তথ্যমিথ্যা প্রচার অন্তর্ভুক্ত। এই ধরনের গ্রে জোন কার্যক্রমকে তিনি “বিপজ্জনক সময়ে বসবাস” করার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রশ্নে উঠে আসে, নাওরস্কি ও ট্রাম্পের বন্ধুত্বের প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের গ্রিনল্যান্ডের ওপর সম্ভাব্য আক্রমণের হুমকি যা ইউরোপে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং ন্যাটো জোটের ঐতিহাসিক সংহতি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। নাওরস্কি জোর দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক কিছু আমেরিকান কর্মকর্তার মন্তব্যের বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইউরোপের নিরাপত্তার প্রধান গ্যারান্টি। তিনি ট্রাম্পের ইউরোপীয় নিরাপত্তা রক্ষার প্রচেষ্টাকে “সমর্থন ও সম্মানের যোগ্য” বলে উল্লেখ করেন।
নাওরস্কি আরও বলেন, ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোল্যান্ড ও তার মিত্রদের ট্রাম্পের নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। তিনি যুক্তি দেন, পুতিনের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সমন্বিত পদক্ষেপই একমাত্র কার্যকর সমাধান। এই বিবৃতি পোল্যান্ডের রাশিয়া-নিরাপত্তা নীতির নতুন দিক নির্দেশ করে এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করে।
নাওরস্কি শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করেন, পোল্যান্ডের সীমান্ত রক্ষা ও ন্যাটোর ঐক্য বজায় রাখতে যুক্তরাজ্যের সামরিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ, এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রয়োজন হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণই ইউরোপের স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার মূল চাবিকাঠি হবে।



