লালমনিরহাটের সদর উপজেলা মহেন্দ্রনগর এলাকায় এক মহিলা পর্যটকীর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ৩১ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি ১১ জানুয়ারি সকালে, পর্যটকী লালমনিরহাট থেকে কুড়িগ্রাম পথে পায়ে চলার সময় ঘটেছে।
প্রায় এক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা অতিক্রম করে পায়ে ভ্রমণরত পর্যটকী, লালমনিরহাটে পৌঁছে কয়েকটি পর্যটনস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময়, লালমনিরহাট শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে মহেন্দ্রনগর এলাকায় তাকে জরুরি শৌচাগার দরকার হয়।
শৌচাগারের জন্য তিনি রাস্তার পাশে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে অনুমতি চেয়ে নেন। বাড়ির বাসিন্দা আবু কালাম, যিনি কাশিপুর গ্রাম (মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন) থেকে, তাকে ব্যবহার করার সময় অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করে এবং তার গৌরব নষ্ট করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পর্যটকী চিৎকার করে সাহায্য চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তবে তারা অভিযোগ করে যে তিনি চুরি করেছে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ সময় পর্যটকী বাড়ি থেকে বেরিয়ে ফেসবুকে লাইভ ভিডিওতে ঘটনাটি বর্ণনা করেন, যেখানে তিনি কাঁদতে কাঁদতে নিজের শোক প্রকাশ করেন।
লাইভ ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রচুর দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভিডিওতে তিনি জানান, এক মাসের ভ্রমণে তিনি পূর্বে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হননি, তবে লালমনিরহাটে এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার মুখোমুখি হন।
পর্যটকী উল্লেখ করেন, দেশের সামাজিক কাঠামো নিয়ে তিনি গভীর দুঃখ অনুভব করছেন এবং এমন ধরনের আচরণকে নিন্দা করেন। তার বক্তব্যে তিনি বিশেষ করে নারীর নিরাপত্তা ও সম্মানের বিষয়টি তুলে ধরেন।
ঘটনার পরপরই লালমনিরহাট সদর থানা ও ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। পর্যটকী মহিলার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু দমন প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন।
ডিবি অফিসার‑ইন‑চার্জ সাদ আহমেদ ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তদন্তের ফলস্বরূপ আবু কালামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যে জেলখানায় রাখা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
আবু কালামকে কাশিপুর গ্রাম (মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন) থেকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা এবং বাড়ির মালিকের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও গৌরব নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হবে।
ডিবি কর্মকর্তার মতে, তদন্ত চলাকালীন আরও কোনো সাক্ষী বা প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। মামলাটি নারীর অধিকার রক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বসহকারে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবশ্যই, এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত সমাধান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।



