22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত

সরকার ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য ভিসা ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপটি নির্বাচন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সোমবার একটি নোটিশে জানিয়েছে। লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ সহজ করা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা নোটিশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পর্যবেক্ষকদের ভিসা ফি মওকুফ করা হবে এবং তাদের আগমনী ভিসায় “নির্বাচন পর্যবেক্ষণ” লেবেল যুক্ত থাকবে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ব্যবস্থা শুধুমাত্র নির্বাচনের নির্ধারিত সময়কালের জন্য প্রযোজ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল আবেদনকে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

নোটিশে একই সঙ্গে বিদেশি সামরিক ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব অনুমতি নিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই শর্তটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সকল প্রকারের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে।

নির্বাচন ও গণভোটের সময় বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ, অবস্থান এবং প্রস্থানের সময় যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভিসা প্রক্রিয়ার বিশেষ নিয়মাবলী প্রয়োগ করা হবে। আগমনী ভিসা, ট্রান্সিট ভিসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভিসা সকলই এই নীতির আওতায় থাকবে এবং নিরাপত্তা সংস্থার তত্ত্বাবধানে জারি করা হবে।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো ২০০৬ সালের ভিসা নীতি এবং পরবর্তীতে জারিকৃত সংশোধনী নোটিফিকেশন অনুসারে আবেদনকারীর ডকুমেন্ট যাচাই করবে। আবেদনকারীর পাসপোর্ট, আমন্ত্রণপত্র, স্পনসর সংস্থা বা ব্যক্তির পরিচয়, হোটেল বুকিং, এবং ফিরে যাওয়ার টিকিটের মতো নথিপত্রের যথার্থতা নিশ্চিত করার পরই ভিসা প্রদান করা হবে।

আগমনী ভিসা প্রদান প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর প্রবেশের উদ্দেশ্য, স্পনসর সংস্থা, বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ইত্যাদি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। কোনো অনিয়ম, সন্দেহজনক তথ্য বা নথিপত্রে ত্রুটি পাওয়া গেলে ভিসা জারি করা থেকে বিরত থাকা হবে। এই কঠোর পদ্ধতি নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাসের পাশাপাশি বৈধ পর্যবেক্ষকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করবে।

নির্বাচন কমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রয়োজনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচনের সময়কাল পর্যন্ত বৈধ ভিসা প্রদান করা হবে। ভিসায় “নির্বাচন পর্যবেক্ষণ” লেবেল যুক্ত থাকবে, যা তাদের প্রবেশের সময় স্বীকৃত করবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে রাখবে।

ভিসা ফি মওকুফের পাশাপাশি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং সীমান্তে বিশেষ শাখা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে। এই সমন্বয় ব্যবস্থা বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নিরাপদ প্রবেশ, অবস্থান এবং প্রস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সকল বিদেশি নাগরিকের তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সময়মতো জানাতে হবে। এই তথ্যের মধ্যে প্রবেশের তারিখ, ভিসার ধরন, পর্যবেক্ষণের সময়কাল এবং প্রস্থান সময় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা নিরাপত্তা সংস্থার কার্যকর পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করবে।

বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে, ভিসা ফি মওকুফের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত হবে। অধিক সংখ্যক স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক উপস্থিতি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মানোন্নয়নে সহায়তা করবে।

পরবর্তী ধাপে, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদেরকে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে আবেদন করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে অনুমোদিত হলে ভিসা জারি করবে, এবং নিরাপত্তা সংস্থা সংশ্লিষ্ট শাখায় পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের সময় নজরদারি করবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের নির্ধারিত সময়কালে দেশের বিভিন্ন স্থানে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments