19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমিয়ানমার সরকার আইসিজে গণহত্যা মামলাকে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন’ বলে

মিয়ানমার সরকার আইসিজে গণহত্যা মামলাকে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন’ বলে

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) হ্যাগে চলমান গণহত্যা মামলায় মিয়ানমার সরকার বুধবার তার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা জানায়। মিয়ানমার সরকার দাবি করে যে গ্যাম্বিয়ার দ্বারা রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আইনগত ও প্রমাণগতভাবে ভিত্তিহীন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতি, যা সরকারি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, আইসিজেকে আহ্বান জানায় যে বিচার প্রক্রিয়া জেনোসাইড কনভেনশনের কাঠামোর মধ্যে সত্য ও প্রতিষ্ঠিত আইনের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হোক।

হ্যাগে সোমবার থেকে শুরু হওয়া তিন সপ্তাহব্যাপী শোনানিতে গ্যাম্বিয়া সরকার রোহিঙ্গা জনগণের বিরুদ্ধে সিস্টেম্যাটিক ধ্বংসের অভিযোগ তুলে ধরেছে। গ্যাম্বিয়ার ন্যায়বিচার মন্ত্রী দাওদা জাল্লো প্রথম দিনের শোনানিতে রোহিঙ্গা “ধ্বংসের লক্ষ্যে” আক্রমণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

মিয়ানমার সামরিক শাসনের প্রতিনিধিরা শুক্রবার থেকে আদালতে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে। তারা জোর দিয়ে বলবে যে গ্যাম্বিয়ার উপস্থাপিত অভিযোগগুলো আইনগত ও বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ত্রুটিপূর্ণ।

মিয়ানমার সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্যাম্বিয়ার দায়ের করা অভিযোগগুলো “তথ্য ও আইনের দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ এবং ভিত্তিহীন”। এছাড়া, “অবিশ্বাস্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে গঠিত পক্ষপাতদুষ্ট রিপোর্ট সত্যের বিকল্প হতে পারে না” বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

মিয়ানমার সরকার দাবি করে যে তারা আইসিজের সঙ্গে “সৎসন্ধি” বজায় রেখে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছে। তবে এই বিবৃতিতে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার না করে, “রাখাইন রাজ্যের ব্যক্তিবর্গ” শব্দটি ব্যবহার করে তাদের পুনর্বাসনের ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা জনগণকে সরকারি স্বীকৃত সংখ্যালঘু হিসেবে স্বীকার করে না এবং তাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে। সরকার রোহিঙ্গাদেরকে “বাংলা আগত” হিসেবে চিহ্নিত করে, যদিও তাদের বহু প্রজন্মের ঐতিহাসিক শিকড় রয়েছে।

বর্তমানে ১.১৭ মিলিয়ন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে কক্সবাজারের অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করছেন, যেখানে মানবিক অবস্থা প্রায়ই সংকটময়। এই শিবিরগুলোতে ঘনবসতিপূর্ণ অবস্থায় মৌলিক সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।

মিয়ানমার সরকার দাবি করে যে ২০১৭ সালের সামরিক অভিযান রোহিঙ্গা গোষ্ঠীকে দমন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, যা তারা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার নামে যুক্তি দেয়। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই অভিযানের সময় ব্যাপক ধর্ষণ, অগ্নিকাণ্ড ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন তুলে ধরেছেন।

আইসিজে-তে চলমান এই মামলাটি আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, যদি আদালত রোহিঙ্গা জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা প্রমাণে পৌঁছায়, তবে মিয়ানমার উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়বে।

অন্যদিকে, মিয়ানমার সরকার যদি সফলভাবে তার যুক্তি প্রমাণ করতে পারে, তবে এটি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।

আইসিজের শোনানি আগামী কয়েক সপ্তাহে চলবে, যেখানে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা প্রমাণ উপস্থাপন ও সাক্ষ্য দেবেন। শেষ রায়ের প্রত্যাশা ২০২৬ সালের শেষের দিকে করা হচ্ছে, যা মিয়ানমার-রোহিঙ্গা সংকটের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments