28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবিপিসি এলপিজি আমদানি অনুমোদনের জন্য আবেদন, বাজারে ভারসাম্য আনার লক্ষ্য

বিপিসি এলপিজি আমদানি অনুমোদনের জন্য আবেদন, বাজারে ভারসাম্য আনার লক্ষ্য

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ১০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি লিখে এলপিজি (লিকুইডেড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) আমদানি করার অনুমতি চেয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের এলপিজি সরবরাহে ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিচ্ছে, ফলে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারী হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত হওয়ায়, বিপিসি এই ঘাটতি পূরণে নিজস্ব উদ্যোগে আমদানি করে বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহের পরিকল্পনা করেছে।

এলপিজি বাজার বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরবরাহের ঘাটতি এবং কৃত্রিম সংকটের ফলে দাম দ্রুত বাড়ছে, তবে সরকারী কোনো সরাসরি হস্তক্ষেপের ব্যবস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে বিপিসি জিটিইউ (গ্যাস ট্রেডিং ইউনিট) ভিত্তিক আমদানি প্রক্রিয়া গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যাতে দ্রুত বাজারে সিলিন্ডার পৌঁছে যায়।

বিপিসি চেয়ারম্যানের মতে, অনেক বেসরকারি সংস্থা জটিল নিয়মাবলী ও আর্থিক বাধার কারণে এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। বিপিসি এই ফাঁক পূরণ করে সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করতে চায়, যা সরবরাহের ঘাটতি কমিয়ে বাজারকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা বজায় থাকলে সমস্যার সমাধান সম্পূর্ণ নয়।

বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, বেসরকারি সংস্থাগুলি প্রতি মাসে বেসরকারি এলপিজি দামের নির্ধারণ করে, তবে বাস্তবে সেই দামে বিক্রি হয় না। ফলে, বিপিসি সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি না করলে দাম ও সরবরাহে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আশা করা কঠিন। পূর্বে সরকারী এলপিজি আমদানি উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি, যা এই ক্ষেত্রের নীতি ও বাস্তবায়নের জটিলতা নির্দেশ করে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জানান যে, সরকার এখনও এলপিজি আমদানি না করলেও, সরকার-থেকে-সরকারি পর্যায়ে আমদানি সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। অনুমোদন পেলে বাজারে ভারসাম্য ফিরে আসবে এবং গ্রাহকদের উপর চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার শুধুমাত্র আমদানি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে; সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণে সরাসরি জড়াবে না।

বিপিসি উল্লেখ করেছে যে, দেশের এলপিজি আমদানি করার জন্য তার নিজস্ব অবকাঠামো বর্তমানে পর্যাপ্ত নয়। গুদাম, বোতলজাতকরণ সুবিধা এবং বিতরণ নেটওয়ার্কের অভাবের কারণে, বিপিসি বেসরকারি অপারেটরদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ওপর নির্ভর করতে চায়। এই সহযোগিতা দ্রুত সিলিন্ডার সরবরাহে সহায়তা করবে এবং বাজারে অতিরিক্ত চাপ কমাবে।

বিপিসি যদি আমদানি অনুমোদন পায়, তবে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। সরবরাহের ঘাটতি কমে গেলে, গ্যাস স্টেশন ও গৃহস্থালী ব্যবহারকারীদের জন্য দাম স্থিতিশীল হতে পারে। তবে বেসরকারি খাতের দামের নিয়ন্ত্রণ ও বাজারের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য নীতিগত পদক্ষেপের প্রয়োজন থাকবে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এলপিজি আমদানি করে বিপিসি বাজারে প্রবেশ করলে গ্যাসের চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার হতে পারে। তবে যদি সরকারী আমদানি শুধুমাত্র সীমিত পরিমাণে হয় এবং বেসরকারি বিক্রয় চ্যানেলেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে দাম কমাতে প্রভাব সীমিত থাকতে পারে। তাই, দীর্ঘমেয়াদে মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকারী ও বেসরকারি উভয়ের সমন্বিত নীতি প্রয়োজন।

সারসংক্ষেপে, বিপিসি এলপিজি আমদানি অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে, যা সরবরাহ ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি মোকাবেলায় একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ। বাজারের বর্তমান গঠন এবং বেসরকারি দামের নির্ধারণের পদ্ধতি বিবেচনা করলে, সরকারী হস্তক্ষেপের পরিধি ও কার্যকারিতা নির্ধারণে স্পষ্ট নীতি দরকার। অনুমোদন পেলে, বিপিসি সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নীতিগত কাঠামো ও অবকাঠামো উন্নয়ন অপরিহার্য।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments