জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও হুমকি মূল্যায়নের পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য গনশস্ত্রসহ পুলিশ এস্কর্ট ও বাড়ি রক্ষী ব্যবস্থা চালু করেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মোট ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তার জন্য পুলিশ নিরাপত্তা, এস্কর্ট এবং গনশস্ত্র সরবরাহ করেছে। এই তথ্য হোম মন্ত্রণালয় ও ডিএমপির অফিসিয়াল সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষ শাখা (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী ১৭ জন ব্যক্তির জন্য গনশস্ত্র ব্যবস্থা করেছে। এদের অধিকাংশই রাজনৈতিক প্রোফাইলের অধিকারী, যা নিরাপত্তা সংস্থার বিস্তৃত মূল্যায়নের ফলাফল।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গনশস্ত্রের অনুমোদন আবেদন ভিত্তিতে প্রদান করা হবে। এই নীতির ফলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন ব্যক্তি গনলাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই রাজনৈতিক নেতা।
গনশস্ত্রসহ পুলিশ এস্কর্ট পাওয়া শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারিক রহমান এবং জামায়াত আমীর শফিকুর রহমান অন্তর্ভুক্ত। ডিএমপির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানিয়েছেন।
এছাড়া চারজন নির্বাচন কমিশনার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশারকেও ডিএমপি থেকে একই ধরনের নিরাপত্তা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত হয়েছে।
শফিকুর রহমানের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য হোম মন্ত্রণালয় ১২ জানুয়ারি একটি চিঠি জারি করে ইন্সপেক্টর জেনারেলকে তার উত্তরা বাসায় গনশস্ত্র এবং ইউনিফর্মড পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেয়। চিঠিতে বিদ্যমান নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পূর্বে, ৬ জানুয়ারি হোম মন্ত্রণালয় আরেকটি চিঠি জারি করে তিনজন রাজনৈতিক ব্যক্তির জন্য নিরাপত্তা শক্তিশালীকরণ, গনশস্ত্রসহ, চায়। উক্ত ব্যক্তিরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) এর এমির সাইয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, বিএনপি’র মেহেরপুর-১ প্রার্থী মাসুদ আরুন এবং গনসম্মতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।
এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে গৃহীত হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কর্মকর্তারা নিরাপত্তা জোরদারির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, কিছু সমালোচক গনশস্ত্রসহ এস্কর্টের অতিরিক্ত ব্যবহারকে সম্ভাব্য অপব্যবহারের ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে বর্তমান নিরাপত্তা পরিবেশে প্রয়োজনীয়তা ও ঝুঁকি মূল্যায়নকে ভিত্তি করে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে গনলাইসেন্সের আবেদন সংখ্যা বাড়তে পারে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি অতিরিক্ত গনশস্ত্র ও পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা করতে পারে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখা।



