দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে হিংসা, গুলিবারুদ, ছুরি-হাতুড়ি হামলা এবং গ্যাং সংঘর্ষের সংখ্যা, ফলে জনসাধারণের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। interim সরকারকে দুর্বল, অক্ষম ও উদাসীন বলে সমালোচনা করা হচ্ছে, এবং আইন শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের দাবি তীব্রতর হচ্ছে।
সর্বশেষ মাসগুলোতে গুলিবারুদ, ছুরি-হাতুড়ি মারামারি, কাঠের দণ্ডে আঘাত এবং গোষ্ঠীভিত্তিক হিংসা শহর ও গ্রাম উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকভাবে ঘটছে। এই ধরনের অপরাধের ধারাবাহিকতা জনসাধারণের মধ্যে হতাশা ও ক্লান্তি বাড়িয়ে তুলেছে, কারণ অপরাধের হার কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
interim সরকারকে এখন দুর্বল ও অক্ষম বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, এবং তার নীতি-নির্ধারণে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায় সমালোচকরা সরকারকে ‘অসচেতন’ বলে সমালোচনা করছেন। তবে ‘দুর্বল’ বা ‘অক্ষম’ শব্দগুলোকে কী মানদণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা প্রায়শই স্পষ্ট করা হয় না।
আইন শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের দাবি করার আগে, কোন সময়ের শৃঙ্খলা মডেলকে পুনরুদ্ধার করা উচিত, তা নির্ধারণ করা জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতি তুলনা করা হলে, অতীতের শাসনকালে হিংসা ও অপরাধের প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা ভিন্ন ছিল, যা আজকের বিশৃঙ্খলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
শেখা হাসিনার প্রায় পনেরো বছর দীর্ঘ শাসনকালে ছুরি, গুলিবারুদ এবং সংগঠিত রাস্তার হিংসা বিদ্যমান ছিল, তবে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত ও শাসনযন্ত্রের একটি অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেই সময়ের হিংসা স্বতঃস্ফূর্ত নয়, বরং রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পিত ছিল।
শাসনকালে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধীরে ধীরে জোরালো দমনমূলক নীতিতে রূপান্তরিত হয়। বিরোধী দলগুলোকে সিস্টেমেটিকভাবে দমন করা হয়, সাংবাদিকদের ওপর ভয় দেখানো হয় এবং বিরোধী মতামতকে অপরাধের শ্রেণিতে ধরা হয়।
বাধ্যতামূলক অদৃশ্যতা ও বিচারের বাইরে হত্যা ঘটার ঘটনা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া না জাগিয়ে ভয় প্রদানের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের কৌশলগুলো সমাজে গভীর আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে।
রুলিং পার্টির সক্রিয় সদস্য ও ছাত্র শাখাগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে শাসনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। তারা ছুরি, দণ্ড ও কুঠার ব্যবহার করে বিরোধীকে নিস্তেজ করতে, টেন্ডার ও স্থানীয় ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং প্রতিবেশী এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে সহায়তা করে।
এই পদ্ধতিগুলোকে ‘দমনমূলক হিংসা’ বলা হয়, যা শাসনকালের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে প্রকৃত শান্তি নয়। অপরাধের পরিসংখ্যান তখনও নিয়ন্ত্রিত দেখাত, যদিও বাস্তবে ভয় ও দমনমূলক কার্যক্রমের মাত্রা উচ্চ ছিল।
বর্তমান সময়ে হিংসা আরও বিশৃঙ্খল ও প্রতিশোধমূলক রূপে প্রকাশ পায়, যা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের অভাবের ইঙ্গিত দেয়। গ্যাং সংঘর্ষ, গুলিবারুদ এবং গৃহহিংসা একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতি নির্দেশ করে যে শুধুমাত্র কঠোর পুলিশিং সমস্যার সমাধান নয়, বরং আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার মৌলিক কাঠামোতে সংস্কার প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা হ্রাস পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য স্বচ্ছতা, স্বতন্ত্র বিচার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা সংস্থার স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা পুনরায় মুক্তভাবে চালানোর পরিবেশ গড়ে তোলা, সাংবাদিক স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের উপর কঠোর নজরদারি করা প্রয়োজন।
এই রূপান্তর না হলে, আসন্ন নির্বাচনী চক্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং হিংসা আরও তীব্র হতে পারে। সরকার যদি দ্রুত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সারসংক্ষেপে, বর্তমান হিংসা ও অপরাধের ধারা শুধুমাত্র কঠোর পুলিশিং দিয়ে সমাধানযোগ্য নয়; এটি গভীরতর প্রতিষ্ঠানিক সমস্যার ফল, যা সংস্কার ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে সমাধান করা দরকার।



