বাংলাদেশের ফুতসাল দল আজ থাইল্যান্ডের ননথাবুরি স্টেডিয়ামে ভারতের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ খেলবে, যা SAFF ফুতসাল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর একটি। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় শুরু হবে এবং Sportzworkz ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।
এই ম্যাচের আগে শ্রীলঙ্কা ও ভুটান দল একই দিনে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলা খেলবে, ফলে সাতটি দলের প্রতিযোগিতা একসাথে শুরু হবে। টুর্নামেন্টের এই সূচনা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হওয়ায় অতিরিক্ত মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল সংস্কৃতিতে ১১-জনের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল এখনও প্রধান, তবে SAFF এইবার পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য আলাদা ফুতসাল প্রতিযোগিতা চালু করে অঞ্চলে এই শাখার বিকাশে পদক্ষেপ নিয়েছে। পুরুষদের টুর্নামেন্টে সব দল একে অপরের সঙ্গে একবার করে খেলবে এবং শেষ টেবিলের শীর্ষস্থানীয় দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষিত হবে।
অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে নেপাল, মালদ্বীপ ও ভারতকে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এ দেশগুলো ফুতসালের সঙ্গে পূর্বে বেশি পরিচিত। অন্যদিকে বাংলাদেশ, ভুটান, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এখনও এই ফরম্যাটে সীমিত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
বাংলাদেশের জন্য এটি দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ফুতসাল টুর্নামেন্ট, প্রথমটি ছিল গত সেপ্টেম্বরের AFC ফুতসাল এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার। একই কোয়ালিফায়ারে ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তানও অংশগ্রহণ করেছিল, তবে কোন দলই অগ্রসর হতে পারেনি। ভারত একমাত্র মঙ্গোলিয়ার বিরুদ্ধে জয় অর্জন করলেও, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান সব ম্যাচ হারিয়েছিল।
বাংলাদেশের দলে ইরানীয় কোচ সাঈদ খোদারাহমি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি দলকে এখনো শিখন পর্যায়ে বলে উল্লেখ করেছেন, তবে প্রশিক্ষণকালীন দীর্ঘ প্রস্তুতি দলকে অগ্রগতি করতে সহায়তা করেছে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলটি এক মাসেরও বেশি সময়ের ক্যাম্প চালিয়েছে, যার মধ্যে থাইল্যান্ডের একটি মানসম্পন্ন ফুতসাল কোর্টে দশ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সময়ে খেলোয়াড়রা ট্যাকটিক্যাল দিক ও দ্রুতগতির খেলা শিখতে পেরেছে।
ক্যাপ্টেন রাহবার ওয়াহেদ খান টুর্নামেন্টের পূর্বে একটি ব্রিফিংয়ে বললেন, “আমরা প্রতিদিনই উন্নতি করছি। ফুতসাল দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো নতুন, তবে আমাদের দল ধীরে ধীরে এই শাখায় আত্মবিশ্বাস অর্জন করছে।” তার এই মন্তব্য দলকে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে উৎসাহিত করেছে।
টুর্নামেন্টের সময়সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রথমে ভারতের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, এরপর পরবর্তী ম্যাচে তাদের নির্ধারিত প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে হবে। টেবিলের শীর্ষে পৌঁছাতে প্রতিটি পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ হবে, কারণ সব দলই একে অপরের সঙ্গে একবার করে খেলবে।
এই প্রথম ফুতসাল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী সব দেশই নিজেদের ফুতসাল ক্ষমতা যাচাই করার সুযোগ পাবে। যদিও বাংলাদেশ এখনও শীর্ষ দলগুলোর তুলনায় পিছিয়ে, তবে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দলকে ধীরে ধীরে উন্নত করতে সহায়তা করবে।
টুর্নামেন্টের ফলাফল সরাসরি ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাবে, যা ভক্তদের জন্য সহজে অ্যাক্সেসযোগ্য হবে। ফুতসালের এই নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ কীভাবে পারফর্ম করবে তা দেশের ক্রীড়া অনুরাগীদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ বিষয়।
সারসংক্ষেপে, আজ ননথাবুরি স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া এই ম্যাচটি শুধুমাত্র একটি খেলা নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার ফুতসাল সংস্কৃতির বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং দুই প্রতিবেশী দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।



