ইংরেজি পাঙ্ক‑রক গায়ক‑গীতিকার বিলি আইডল, ৭০ বছর বয়সে তার ক্যারিয়ারের পঞ্চাশতম বর্ষে প্রথমবারের মতো অস্কার মূল গানের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। “ডাইং টু লিভ” শিরোনামের গীতটি জে. রালফের সঙ্গে যৌথ রচনা এবং জোনাস অ্যাকারুলান্ডের ডকুমেন্টারি “বিলি আইডল শুড বি ডেড”‑এর সমাপনী দৃশ্যে ব্যবহার হবে। এই স্বীকৃতি তার পাঁচ দশকের সঙ্গীত যাত্রার মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
বিলি আইডল ১৯৮০‑এর দশকে পাঙ্ক‑রক থেকে রক‑পপে রূপান্তরিত হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উঁচুতে উঠে এসেছিলেন। “ড্যান্সিং উইথ মাইসেলফ”, “হোয়াইট ওয়েডিং”, “ক্রেডল অব লাভ” এবং “আইস উইদাউট এ ফেস” সহ বহু হিট গানের মাধ্যমে তিনি এমটিভি‑চালিত “সেকেন্ড ব্রিটিশ ইনভেশন”‑এর অন্যতম মুখ ছিলেন। তার স্বতন্ত্র চুলের স্টাইল, তীক্ষ্ণ ভ্রু এবং স্বরলিপি আজও ভক্তদের কাছে আকর্ষণীয়।
সাম্প্রতিক পাঁচ বছরে আইডল বেশ কয়েকটি সঙ্গীত প্রকল্পে সক্রিয় ছিলেন। ২০২১ সালে “দ্য রোডসাইড” এবং ২০২২ সালে “দ্য কেজ” শিরোনামের দুইটি ইপি প্রকাশ করেন। এরপর ২০২৫ সালে ১১ বছর পর প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম “ড্রিম ইন্টু ইট” প্রকাশ করে পুনরায় শীর্ষে উঠে আসেন। এই অ্যালবামটি তার পূর্বের রক‑সাউন্ডের সঙ্গে আধুনিক প্রোডাকশনকে মিশ্রিত করে নতুন শ্রোতাদের মন জয় করেছে।
বিলি আইডল উত্তর আমেরিকায় জোয়ান জেটের সঙ্গে ট্যুর করে পুরনো ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন। পাশাপাশি তিনি ২০২০ সালে মিলি সাইরাসের “প্লাস্টিক হার্টস” অ্যালবামের “নাইট ক্রলিং” গানে সহযোগিতা করেন, যা দুই শিল্পীর পারস্পরিক সম্মান ও সৃজনশীলতা প্রকাশ করে। এই ধরনের সহযোগিতা তার সঙ্গীতের বহুমুখিতা ও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগকে দৃঢ় করে।
২০২৩ সালে হলিউড ওয়াক অব ফেমে তার নামের তারকা যুক্ত হয় এবং ২০২৫ সালে রক অ্যান্ড রোল হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্তির জন্য মনোনয়ন পান। এই সম্মানগুলো তার দীর্ঘায়ু ক্যারিয়ার ও সঙ্গীত শিল্পে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। তার সাফল্য কেবল চার্টে শীর্ষে থাকা নয়, বরং শিল্পের ইতিহাসে স্থায়ী চিহ্ন রেখে যাওয়াও অন্তর্ভুক্ত।
অস্কার মূল গানের তালিকায় নাম যুক্ত হওয়া “ডাইং টু লিভ” গানের থিমটি জীবনের অনিশ্চয়তা ও পুনর্জন্মের ওপর ভিত্তি করে। গীতিকার জে. রালফের সঙ্গে মিলিত হয়ে রচিত এই গানে আইডলের স্বতন্ত্র ভোকাল ও আবেগপূর্ণ সুরের সমন্বয় দেখা যায়। গানের লিরিক্সে মৃত্যুর কাছাকাছি থাকা মুহূর্তগুলোকে স্বীকার করে জীবনের মূল্যকে পুনরায় নির্ধারণের আহ্বান রয়েছে।
ডকুমেন্টারি “বিলি আইডল শুড বি ডেড” তার জীবনের উত্থান-পতন, পারফরম্যান্সের উন্মাদনা এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামকে চিত্রায়িত করে। শেষ দৃশ্যে “ডাইং টু লিভ” গানের ব্যবহার ডকুমেন্টারির সমাপ্তিকে আবেগময়ভাবে সমাপ্ত করে, যা দর্শকদের আইডলের মানবিক দিকটি অনুভব করতে সাহায্য করে। এই চলচ্চিত্রটি তার ক্যারিয়ারের সমগ্রতা ও পরিবর্তনের গল্পকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করে।
বিলি আইডল তার হলিউড হিলসের বিশাল সম্পত্তিতে বসবাস করেন, যেখানে তিনি ১৯৮৮ সালে নিউ ইয়র্ক থেকে লস এঞ্জেলেসে স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে বাড়িটি মালিকানা বজায় রেখেছেন। সম্প্রতি তিনি এই বাড়িতে গৃহীত এক কথোপকথনে অস্কার তালিকায় নাম যুক্ত হওয়ার অনুভূতি ও ডকুমেন্টারির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই স্বীকৃতি তার সঙ্গীত যাত্রার নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
বয়সের পরিপ্রেক্ষিতে আইডল এখন দাদী, তার পরিবারে তিনজন নাতি-নাতনি রয়েছে এবং তিনি শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনকে অগ্রাধিকার দেন। পার্টি‑পূর্ণ অতীতের তুলনায় এখন তিনি বেশি সময় পরিবার ও সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে ব্যয় করেন। তবু তার সঙ্গীতের প্রতি উত্সাহ ও স্টেজে উপস্থিতি এখনও তীব্র, যা তার ভক্তদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।
বিলি আইডলের বর্তমান জীবনধারা তার শিল্পী পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি নিয়মিত স্টুডিওতে কাজ করেন, নতুন সুর রচনা করেন এবং তরুণ শিল্পীদের সঙ্গে মেন্টরশিপ প্রদান করেন। তার সৃষ্টিশীলতা ও অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের সঙ্গীতশিল্পীদের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করে, যা সঙ্গীতের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে।
বিলি আইডলের অস্কার তালিকায় নাম যুক্ত হওয়া সঙ্গীত জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা তার দীর্ঘায়ু ক্যারিয়ারকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করে। তার গানের বার্তা ও সৃষ্টিশীলতা ভবিষ্যতে আরও বেশি শ্রোতাকে আকৃষ্ট করবে বলে আশা করা যায়।
যদি আপনি বিলি আইডলের সঙ্গীতের নতুন দিক অন্বেষণ করতে চান, তবে তার সাম্প্রতিক অ্যালবাম “ড্রিম ইন্টু ইট” এবং ডকুমেন্টারি “বিলি আইডল শুড বি ডেড” দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই কাজগুলো তার শিল্পী হিসেবে বিকাশ ও মানবিক দিক উভয়ই উপস্থাপন করে, যা সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।



