পর্তুগালের জাতীয় দল ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন শহরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচি শুরু করবে। মিডফিল্ডার ভিটিনিয়া, সম্প্রতি দুবাইতে গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডসে সেরা মিডফিল্ডার পুরস্কার জয় করার পর, দলের জন্য একটি বিশেষ মানসিক শক্তি উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ছয় মাস আগে আকস্মিকভাবে মারা যাওয়া দুই ভাই‑দ্বয়—ডিয়োগো জোতা এবং আন্দ্রে সিলভা—এর স্মৃতি এই টুর্নামেন্টে পর্তুগালের জন্য ব্যক্তিগত ও দলগত উত্সাহের উৎস হবে।
ভিটিনিয়া বলেন, “এ নিয়ে কথা বলা খুব কঠিন। কেউই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে চায় না। এটি সবার জন্যই দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ক্ষতি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি সবচেয়ে বেশি ভাবি তাদের বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের কথা। ওদের কথাই মনে পড়ে বারবার।” এই দুঃখের মাঝেও তিনি জোর দেন যে, “প্রয়াত দুই ভাইয়ের স্মৃতিই আসন্ন বিশ্বকাপে পর্তুগালের জন্য ব্যক্তিগত ও দলগত প্রেরণার উৎস হবে। আর এটা শুধু বিশ্বকাপ বলে নয়, সবার স্বপ্ন বলে নয়—ওদের জন্যও আমরা জিততে চাই।”
পর্তুগাল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে অপ্রত্যাশিত পরাজয় ভোগ করে। ভিটিনিয়া স্বীকার করেন, “সেই দিন মরক্কোই ভালো খেলেছিল।” তবে তিনি উল্লেখ করেন, সেই পরাজয়ের পর থেকে দলটি ধীরে ধীরে পুনর্গঠন করেছে, বিশেষ করে গত গ্রীষ্মে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে স্পেনকে পরাজিত করা দলকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।
ভিটিনিয়া পর্তুগালের বিশ্বকাপের সম্ভাবনা সম্পর্কে আশাবাদী রয়ে বলেন, “আমরা বিশ্বের সেরা জাতীয় দলগুলোর একটি। তাই এটা বাস্তবসম্মত লক্ষ্য। তবে একই সঙ্গে আমরা নিজেদের ফেভারিট বলছি না, তবে অনেক দূর যাওয়ার সক্ষমতা আমাদের আছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কঠিন পরিবেশ, বড় চ্যালেঞ্জ, উচ্চ তাপমাত্রা ও বর্ধিত সূচির কারণে এবারের বিশ্বকাপ আরও কঠিন হবে।”
ভিটিনিয়া যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রথম ক্লাব বিশ্বকাপে পিএসজি হিসেবে খেলায় অর্জিত অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, “ওখানে খেলতে ভালো লেগেছে, কিন্তু গরম আর টানা ম্যাচের চাপ খুব কঠিন। শারীরিক ও মানসিকভাবে যে দল সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত থাকবে, তারাই এগিয়ে যাবে।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, শারীরিক প্রস্তুতি ও মানসিক স্থিতিশীলতা টুর্নামেন্টে পার্থক্য গড়ে তুলবে।
লুইস এনরিকের অধীনে ভিটিনিয়ার উত্থানও উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালে পিএসজিতে স্প্যানিশ কোচের আগমনের পর থেকে তিনি দলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। এনরিকের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভিটিনিয়ার টেকনিক্যাল দক্ষতা মিলিয়ে পর্তুগালের মিডফিল্ডে নতুন গতিপথ তৈরি হয়েছে।
ভিটিনিয়ার মতে, পর্তুগালের বর্তমান দল কেবল অতীতের সাফল্যের উপর নির্ভর করে না; তারা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুত। হিউস্টনে শুরু হওয়া এই বিশ্বকাপে, ভিটিনিয়া এবং তার সহকর্মীরা জোতা‑আন্দ্রে সিলভার স্মৃতিকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে, কঠিন পরিবেশে নিজেদের সেরা রূপ দেখাতে চায়।
পরবর্তী ম্যাচে পর্তুগাল প্রথম প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যা দলের প্রস্তুতি ও মানসিক শক্তি পরীক্ষা করবে। ভিটিনিয়ার নেতৃত্বে, দলটি গরমের চাপ, ঘন ঘন ম্যাচ এবং উচ্চ প্রত্যাশার মধ্যে কীভাবে পারফর্ম করবে, তা বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।



