22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংককে রেফারেন্ডাম প্রচারে নির্দেশ, ব্যাংকিং সেক্টরে উদ্বেগ

বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংককে রেফারেন্ডাম প্রচারে নির্দেশ, ব্যাংকিং সেক্টরে উদ্বেগ

বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি চিঠির মাধ্যমে রেফারেন্ডাম প্রচারের জন্য সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে নির্দেশ দিয়েছে। এই রেফারেন্ডামটি ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদীয় নির্বাচনের সঙ্গে একসাথে অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশের সংবিধানিক সংস্কার সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো নিয়ে গঠিত। চিঠিতে শাখা শাখায় ব্যানার লাগিয়ে ভোটে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাতে বলা হয়েছে, যা ব্যাংকিং সম্প্রদায়ের কিছু অংশে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও স্বার্থসংঘাতের উদ্বেগ উত্থাপন করেছে।

বিবি শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানিয়েছে যে, শাখা সমূহে ভোটের প্রচারমূলক ব্যানার স্থাপন করা এবং গ্রাহকদের ভোটে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হবে। তবে ব্যাংকিং সেক্টরের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, তারা সাম্প্রতিক একটি বৈঠকে রেফারেন্ডামের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করার নির্দেশ পেয়েছেন। এই নির্দেশনা রেফারেন্ডামের মূল বিষয়বস্তু, অর্থাৎ ‘জুলাই চার্টার’ নামে পরিচিত সংবিধানিক সংস্কার এজেন্ডা, সমর্থন করার লক্ষ্যে দেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগের সূত্রপাত জানুয়ারি ৫ তারিখে চিফ অ্যাডভাইজারের অফিস থেকে প্রেরিত একটি চিঠি থেকে হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ পর, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মানসুরের নেতৃত্বে একটি বৈঠকে এই বিষয়টি আরও তীব্রভাবে তুলে ধরা হয়। সেই বৈঠকে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা দলকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন জানাতে বলা হয় এবং একই সঙ্গে এনজিওগুলোকে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তহবিল সরবরাহের অনুরোধ করা হয়।

অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) এর চেয়ারম্যান মশরুর আরেফিন এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওদের স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন জানাতে বলা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংকগুলোকে এনজিওগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে বলা হয়েছে, যাতে রেফারেন্ডামের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়; এবিবি এই সহায়তা সহজতর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আরেফিনের মতে, রাজনৈতিক পরিবেশের জটিলতা বিবেচনা করে এই উদ্যোগের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করা হয়েছে, তবে একই সঙ্গে কিছু উচ্চপদস্থ ব্যাংক কর্মকর্তা গোপনে এই অনুরোধের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গোপনীয়তা চেয়ে কথা বলা একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সিইও জানান, রাজনৈতিক স্বভাবের কারণে এই বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করা উচিৎ ছিল, সমষ্টিগত ফোরামে নয়। তিনি উল্লেখ করেন, রেফারেন্ডামের ‘হ্যাঁ/না’ প্রশ্নগুলোর মধ্যে স্বার্থসংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ব্যাংকের স্বতন্ত্রতা ও নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

অন্য একটি ব্যাংকের সিইওও একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ব্যাংকগুলোকে এই ধরনের রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া উচিত নয়; সরকার নিজেই যদি ক্যাম্পেইন চালাতে চায়, তবে তা স্বাধীনভাবে করা উচিৎ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যাংকের মূল কাজ হল আর্থিক সেবা প্রদান, রাজনৈতিক প্রচার নয়।

এই পরিস্থিতিতে রেফারেন্ডামের ফলাফল ও তার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত রেফারেন্ডাম ও সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফল দেশের সংবিধানিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, তাই ব্যাংকিং সেক্টরের স্বচ্ছতা ও স্বার্থসংঘাতের প্রশ্নগুলো তীব্রভাবে নজরে আসবে। ব্যাংকগুলো এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা সরকারের নির্দেশনা মেনে ক্যাম্পেইনে অংশ নেবে নাকি স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে দূরত্ব রাখবে।

ভবিষ্যতে রেফারেন্ডামের ফলাফল ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে। ব্যাংকিং সংস্থাগুলোর এই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সম্পর্কের নতুন রূপ গড়ে উঠতে পারে, যা আর্থিক খাতের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments