১১টি রাজনৈতিক দলের জোট যদি একাধিক নির্বাচনী এলাকায় একক প্রার্থী নির্ধারণে অক্ষম হয়, তবে তারা ঐ সিটগুলোকে ‘ওপেন’ রেখে সব সদস্যের জন্য উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা করেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী ৩০০টি মোট সিটের প্রায় দশ শতাংশে প্রযোজ্য হতে পারে। জোটের লক্ষ্য হল ভোটারদের সমর্থন একত্রিত করে নির্বাচনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা।
এই জোটের মধ্যে রয়েছে জামাত‑ই‑ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য ছোট দল। ডিসেম্বরের প্রথমার্ধ থেকে সিট ভাগের আলোচনা চলছে, তবে এখনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছায়নি।
সদস্য দলগুলো একসঙ্গে প্রায় ২৬০ থেকে ২৭০টি সিটে সমঝোতা করতে চায়, তবে বাকি ২০‑৪০টি সিটে মতবিরোধের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। সূত্র অনুযায়ী, এই অনির্ধারিত সিটগুলোকে ‘ওপেন’ করে রাখার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
গতকাল জামাতের নেতারা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খলাফত মজলিসের সঙ্গে বৈঠক করে আলোচনাকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করেছেন। আজ জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আরেকটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
জামাতের সহ-সচিব জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ বিষয়ে জানিয়েছেন, জোটের পার্টনারদের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলমান।
তিনি যোগ করেন, “উচ্চপদস্থ ইস্লামিক পার্টির নেতারা আগামীকাল বা আজই মিলিত হয়ে সিট ভাগের চূড়ান্ত পরিকল্পনা নির্ধারণ করবেন এবং সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন।”
বাংলাদেশ খলাফত মজলিসের সচিব জেনারেল মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, যদি ২৬০‑২৭০টি সিটে চুক্তি হয় এবং ২০‑৪০টি সিটে না হয়, তবে ঐ সিটগুলো ‘ওপেন’ রাখা হবে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, “ওপেন সিটের ক্ষেত্রে যারা প্রার্থী দায়ের করতে ইচ্ছুক তারা করবে; প্রচারণা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ পর সকল প্রার্থীর জনপ্রিয়তা মূল্যায়ন করা হবে। সর্বোচ্চ সমর্থনপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদে অন্যরা পটভূমি থেকে সরে যাবে।”
খলাফত মজলিসের সেক্রেটারি জেনারেল আহমেদ আবদুল কাদের জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ সিটে সমঝোতা হয়েছে। বাকি পাঁচ থেকে দশ শতাংশ সিটে দুই বা তিনটি দলই দাবি রাখায় বিকল্প না থাকায় সেগুলো ‘ওপেন’ রাখতে হতে পারে।
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) সহ অন্যান্য ছোট দলও সিট ভাগের আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। তাদের দাবি ও প্রয়োজনীয়তা জোটের মূল আলোচনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যদিও এখনও সব দিক সমন্বয় করা বাকি।
সিট ভাগের এই প্রক্রিয়া ইসলামি জোটের ভোটার ভিত্তি একত্রিত করার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একাধিক পার্টির সমর্থন একত্রে ‘একটি বাক্সে’ গুছিয়ে ভোটের প্রভাব বাড়ানো লক্ষ্য।
অবশেষে, জোটের শীর্ষ নেতারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিট ভাগের তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে ‘ওপেন’ সিটের ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত বৈঠকও অনুষ্ঠিত হতে পারে।
যদি ‘ওপেন’



