ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) গত বছর নভেম্বরের এক রেইডের পর আর্থিক অমিল প্রকাশের ফলে কর্মকর্তাদের উপর অভ্যন্তরীণ তদন্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। রেইডটি ওয়ারি এলাকায় টিপ-অফের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং জব্দকৃত নকল মুদ্রা ও নগদের পরিমাণ নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।
ডিবি দল ৮ নভেম্বর, ২০২২ তারিখে ওয়ারি বাজারে একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। রেইডে নকল মুদ্রা এবং নগদ জব্দ করা হয়, পাশাপাশি দুইজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। রেইডের পর প্রস্তুত করা তালিকায় নকল মুদ্রা ৬ লাখ টাকা এবং বৈধ নগদ ১৯ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত দুজন রোয়িংগিয়া শরণার্থী, নুরুল হক (৩২) ও সাইদুল আমিন (২৪), টেকনাফ থেকে আসা, দাবি করে যে ডিবি দল মোট ৩ কোটি টাকা জব্দ করেছে, যার মধ্যে ২.৮ কোটি টাকা অফিসিয়াল নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাদের কথায় দেখা যায় জব্দকৃত নগদের পরিমাণের পার্থক্য বড় আকারে রয়েছে, যা তদন্তের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম এই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, জব্দকৃত নগদের অমিলের বিষয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসন্ধান করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শফিকুল ইসলাম তারেক সেকন্দের উপর তদন্তের নির্দেশ দেন, যিনি তেজগাঁও ডিবি বিভাগের সহকারী কমিশনার ছিলেন এবং ওই রেইডের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন। তারেকের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তদন্তের দায়িত্ব রাকিব খানকে দেওয়া হয়, যিনি তখন ডিভিশনের অ্যাক্টিং ডেপুটি কমিশনার ছিলেন। রাকিব ৪ ডিসেম্বর একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেন, তবে উচ্চতর কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দ্বিতীয়, স্বতন্ত্র তদন্তের আদেশ দেন। এই দ্বিতীয় তদন্ত বর্তমানে চলমান এবং এর ফলাফল অপেক্ষা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে একটি ঘটনার সূত্রপাত হয়, যা সম্ভবত দ্বিতীয় তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। ২ ডিসেম্বর, প্রায় রাত ৪ টার দিকে, হোটেল গিভেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, ফার্মগেটের বাইরে তারেক সেকন্দ হোটেলের প্রবেশদ্বারে উপস্থিত হন এবং রাকিব খানকে সেখানে দেখতে পান। দুজনের মধ্যে তৎক্ষণাৎ একটি শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত ফুটেজে দেখা যায় তারেক হোটেলের সামনে পৌঁছে রাকিবের সঙ্গে মুখোমুখি হন, এরপর দুজনের মধ্যে হাতা-হাতি লড়াই হয়। তারেক এই ঘটনার পর ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশকে লিখিত অভিযোগ করেন যে রাকিব তাকে আক্রমণ করেছে এবং শারীরিক হুমকি দিয়েছে।
বর্তমানে ডিবি-র অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলমান, এবং জব্দকৃত নগদের অমিলের প্রকৃত কারণ উন্মোচনের জন্য অতিরিক্ত তদন্তের ফলাফল অপেক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, যদি জব্দকৃত নগদের অমিল প্রমাণিত হয়, তবে তা দুর্নীতি, সম্পদ অপব্যবহার বা জবাবদিহিতা লঙ্ঘনের অভিযোগে গৃহীত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি, পদত্যাগ বা অন্যান্য শৃঙ্খলাবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
এই রেইড এবং পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা স্পষ্ট। জনসাধারণের বিশ্বাস বজায় রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই ধরনের অভ্যন্তরীণ তদন্তের গুরুত্ব অপরিসীম, এবং শেষ পর্যন্ত ফলাফল অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



