বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য অমির খাসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ ঢাকার আগারগাঁওতে বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারের কার্নিভাল হলের ‘সিটিজেন ম্যানিফেস্টো ২০২৬: জাতীয় নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনায় জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পার্লামেন্টের ভিতরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা না থাকলে প্রতিশ্রুতি বারবার ম্লান হয়ে যায়।
অমির খাসরু বলেন, কোনো সরকার একা সব পরিবর্তন আনতে পারে না; শাসনের জন্য অংশীদারিত্ব প্রয়োজন, এবং নাগরিক সমাজই সেই অংশীদারিত্বের মূল ভিত্তি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নাগরিক সমাজের কাজের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ হলে তা স্বৈরতন্ত্রের সূচনাবিন্দু হতে পারে।
পার্লামেন্টের কার্যকারিতা সম্পর্কে তিনি বলেন, “কমিটি গুলো যদি কার্যকর না থাকে, তবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।” এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ তুলে ধরেন, যেখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পার্লামেন্ট বা সেনেটের কমিটিতে প্রশ্নের মুখোমুখি হন এবং কেউই জবাবদিহিতা থেকে মুক্ত নয়।
বিএনপির সংস্কার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, আজকের আলোচনায় উত্থাপিত অধিকাংশ বিষয়ই দলের ৩১‑পয়েন্টের সংস্কার পরিকল্পনায় ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে এমনভাবে পরিবর্তন করতে চায় যাতে কেবলমাত্র একটি ছোট, সংগঠিত গোষ্ঠী নয়, সব নাগরিকই সমানভাবে অংশ নিতে এবং উপকার পেতে পারে।
অর্থনীতির দিক থেকে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে অর্থনৈতিক সুবিধা কেবল কয়েকজনের হাতে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ থাকে।” এভাবে তিনি অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও সমবণ্টনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
অমির খাসরু ভবিষ্যৎ সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দেন, নতুন সরকার যদি সমালোচনার মুখে অচল থাকে তবে তা গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সমালোচনা উপেক্ষা করা স্বৈরতন্ত্রের দিকে ধাবিত হতে পারে।”
এই আলোচনার আয়োজন করেছে প্রাপ্তি, যা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর সমর্থন পেয়েছে। ইভেন্টে উপস্থিত বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, একাডেমিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেন।
অমির খাসরু উল্লেখ করেন, পার্লামেন্টের কমিটিগুলোর কার্যকরী ভূমিকা না থাকলে সরকারী নীতি ও কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কমিটি গুলো যদি সক্রিয় না থাকে, তবে সরকারী কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায় না।”
বিএনপির ৩১‑পয়েন্টের সংস্কার পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের আইনগত কাঠামো, নির্বাচন প্রক্রিয়া, এবং প্রশাসনিক সংস্কারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হবে। অমির খাসরু এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখেন।
অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী এই দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করে, জবাবদিহিতা ও নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে বলে মত প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন, স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক শাসন ব্যবস্থা দেশের উন্নয়নের ভিত্তি।
অমির খাসরু শেষ কথায় বলেন, “গণতন্ত্রের টিকে থাকার জন্য জবাবদিহিতা অপরিহার্য, এবং তা নিশ্চিত করতে পার্লামেন্টের ভিতরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।” এভাবে তিনি আলোচনার সমাপ্তি টানেন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য নাগরিকদের প্রত্যাশা ও দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।



