22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসানিট সম্পদের মান অনুযায়ী আয়কর সারচার্জের হার নির্ধারিত

নিট সম্পদের মান অনুযায়ী আয়কর সারচার্জের হার নির্ধারিত

আয়কর রিটার্নে নিট সম্পদের পরিমাণ নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে সরকার নির্ধারিত হারে সারচার্জ আরোপ করে। সম্পদের মোট মূল্য চার কোটি টাকার নিচে থাকলে কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপিত হয় না; তবে চার কোটি টাকার বেশি এবং দশ কোটি টাকার কম হলে দশ শতাংশ, দশ কোটি টাকার বেশি এবং বিশ কোটি টাকার কম হলে বিশ শতাংশ, বিশ কোটি টাকার বেশি এবং পঞ্চাশ কোটি টাকার কম হলে ত্রিশ শতাংশ, আর পঞ্চাশ কোটি টাকার বেশি হলে পঁয়ত্রিশ শতাংশ হারে সারচার্জ ধার্য করা হয়।

এই হারগুলো আয়কর রিটার্নে প্রদত্ত মূল করের উপর প্রয়োগ করা হয়, বাজারমূল্য বা বর্তমান সম্পদের মূল্যায়ন নয়। তাই রিটার্নে সম্পদের ক্রয়মূল্য বা অর্জনের সময়ের মূল্যই উল্লেখ করতে হয়, বর্তমান বাজারমূল্য নয়। বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, জমি, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি সম্পদের ক্ষেত্রে করদাতাকে ক্রয়কালের মূল্য রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।

বাজারমূল্যকে ভিত্তি না করে পুরনো মূল্য ব্যবহার করার ফলে বহু সম্পদশালী করদাতা সারচার্জের সীমার বাইরে থেকে সুবিধা নিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, দুই-তিন দশক আগে এক লাখ টাকায় কেনা প্লটের বর্তমান বাজারমূল্য লক্ষ লক্ষ হতে পারে, তবু রিটার্নে ঐ এক লাখ টাকাই উল্লেখ করতে হয়। ফলে উচ্চ সম্পদধারী ব্যক্তিরা অতিরিক্ত করের বোঝা থেকে রেহাই পান।

এই নিয়মের প্রয়োগে করবিধি সংশোধনের পর থেকে আর্থিক পরিকল্পনা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। করদাতারা এখন সম্পদের ক্রয়কালের নথিপত্র সংরক্ষণে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন, যাতে রিটার্নে সঠিক তথ্য প্রদান করা যায়। একই সঙ্গে, আর্থিক পরামর্শদাতারা ক্লায়েন্টদের সম্পদের মূল্যায়ন পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করে, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সারচার্জের প্রভাব কমাতে কৌশল প্রণয়ন করছেন।

ভবিষ্যতে সরকার যদি সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্যকে ভিত্তি করে সারচার্জ গণনা করার দিকে ঝুঁকে যায়, তবে সম্পদশালী করদাতাদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বাড়বে। তবে বর্তমান নীতি অনুযায়ী, রিটার্নে পুরনো ক্রয়মূল্য ব্যবহার চালু থাকায়, অনেকেই এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে তাদের কর দায়িত্ব হ্রাস করছেন। কর প্রশাসন যদি রিটার্নে উল্লেখিত মূল্য এবং বর্তমান বাজারমূল্যের পার্থক্য যাচাইয়ের জন্য কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করে, তবে এই ফাঁক কমে যাবে এবং কর সংগ্রহের ন্যায়সঙ্গততা বাড়বে।

সারসংক্ষেপে, নিট সম্পদের মান অনুযায়ী নির্ধারিত সারচার্জের হার ও রিটার্নে ক্রয়মূল্য উল্লেখের পদ্ধতি করদাতাদের আর্থিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সম্পদশালী ব্যক্তিদের জন্য বর্তমান নীতি সুবিধা প্রদান করলেও, ভবিষ্যতে নীতি পরিবর্তন বা নিয়মের কঠোরতা বৃদ্ধি হলে করের বোঝা বাড়তে পারে। তাই করদাতাদের উচিত সম্পদের নথিপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং সম্ভাব্য নীতি পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকা।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments