27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধউত্তর প্রদেশে ১৬‑বছরী পুজার অপরাধমূলক মামলায় জ্যুবিনাইল জাস্টিস বোর্ডের ব্যর্থতা

উত্তর প্রদেশে ১৬‑বছরী পুজার অপরাধমূলক মামলায় জ্যুবিনাইল জাস্টিস বোর্ডের ব্যর্থতা

উত্তর প্রদেশের একটি দরিদ্র পাড়ায় ২০১৮ সালে ১৬ বছর বয়সী পুজা তার মায়ের মৃত্যুর অভিযোগে গ্রেফতার হন। তার সঙ্গে থাকতেন মদ্যপ আত্মীয়, যিনি তার জীবনের আর্থিক ও মানসিক সহায়তা সীমিত করছিলেন। গ্রেফতারের পর তাকে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয়, যদিও আইনের অধীনে তাকে ন্যূনতম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জ্যুবিনাইল জাস্টিস বোর্ডের (JJB) সামনে হাজির করা উচিত ছিল।

আইন অনুযায়ী, ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী অপরাধীকে JJB‑তে উপস্থাপন করা এবং বোর্ডের সিদ্ধান্তে নির্ধারণ করা হয় যে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে বিচার হবেন কিনা। এই বিধান ২০১২ সালের দিল্লি গ্যাং রেপার মামলার পর প্রবর্তিত হয়, যাতে গুরুতর অপরাধে জ্যুবিনাইলদের কঠোর শাস্তি না দিয়ে পুনর্বাসনের সুযোগ থাকে। তবে পুজার ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়।

পুজা গ্রেফতার হওয়ার পর ছয় বছর ধরে প্রাপ্তবয়স্ক কারাগারে বন্দি ছিলেন, যদিও তার মামলাটি প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে চলছিল। এই সময়ে তাকে কোনো জ্যুবিনাইল বোর্ডের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি, ফলে তিনি আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। JJB‑র সদস্যদের মধ্যে একজন প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট এবং দুইজন সামাজিক কর্মী থাকেন, যাদের দায়িত্ব হল ন্যূনতম বয়সের অপরাধীদের সঠিকভাবে বিচার নিশ্চিত করা।

JJB‑র আরেকটি বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হল কারাগারে জ্যুবিনাইলদের অবস্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা। তবে পুজা কারাবন্দি থাকাকালীন কোনো পরিদর্শন করা হয়নি, যা আইনি প্রক্রিয়ার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ত্রুটির ফলে পুজা তার অপরাধের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক শাস্তি না পেয়ে, বরং জ্যুবিনাইল হিসেবে সর্বোচ্চ তিন বছরের দণ্ডের পরিবর্তে ছয় বছর কারাবাসে কাটিয়ে ফেলেন।

২০২৪ সালে পুজার মামলা অবশেষে একটি JJB‑তে স্থানান্তরিত হয়। বোর্ডের তদন্তে স্পষ্ট হয় যে অপরাধের সময় তিনি ন্যূনতম বয়সের অধীনে ছিলেন। ফলস্বরূপ, তাকে জ্যুবিনাইলের সর্বোচ্চ শাস্তি—তিন বছর—অনুসারে রিলিজ করা হয়, কারণ তিনি ইতিমধ্যে ছয় বছর কারাগারে কাটিয়েছেন।

পুজার আইনজীবী উল্লেখ করেন, তিনি একাধিক শিশুকে সমানভাবে এই সিস্টেমের ব্যর্থতা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখেছেন। জ্যুবিনাইল বিচার ব্যবস্থার এই ধরণের ত্রুটি দেশের তরুণ অপরাধীদের পুনর্বাসনের মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষুণ্ণ করে।

ভারতে প্রথমবারের মতো ১৯৮৬ সালে জ্যুবিনাইল জাস্টিস (কেয়ার অ্যান্ড প্রোটেকশন অব চিলড্রেন) আইন প্রণয়ন করা হয়, যা পরবর্তীতে বহুবার সংশোধিত হয়েছে। এই আইনটি শিশুর অধিকার রক্ষা, তাদের পুনর্বাসন ও সমাজে পুনঃসংযোজনের সুযোগ প্রদান করার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে উঠেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবায়নে এখনও বড় ফাঁক রয়ে গেছে। জ্যুবিনাইলদের জন্য পৃথক কারাগার ব্যবস্থা, সময়মতো JJB‑তে উপস্থাপন এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ তদবির প্রয়োজন। বর্তমান সিস্টেমে প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে মামলায় রূপান্তর, দীর্ঘমেয়াদী কারাবাস এবং পুনর্বাসনের সুযোগের অভাব স্পষ্ট।

পুজার মামলার পরিপ্রেক্ষিতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়ছে যাতে জ্যুবিনাইল বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়। আইনসভার কিছু সদস্য ইতিমধ্যে এই ধরণের ত্রুটি দূর করার জন্য অতিরিক্ত বিধান প্রস্তাব করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে JJB‑তে উপস্থাপনের কঠোর বাধ্যবাধকতা এবং কারাগারে জ্যুবিনাইলের নিয়মিত তদারকি।

অবশেষে, পুজা এবং অনুরূপ অবস্থায় থাকা হাজারো শিশুর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং তাদের পুনর্বাসনের সঠিক পথ তৈরি করা এখনই দেশের juvenile justice system‑এর প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করবে কিনা, তা নির্ভর করবে আইনগত কাঠামোর সঠিক বাস্তবায়ন এবং সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments